সিলেটে লাইসেন্সবিহীন ১৪ ক্লিনিক, ৭টিতে অভিযান

সিলেটে লাইসেন্স ছাড়াই চলছে অন্তত ১৪টি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল। এর মধ্যে সাতটিতে অভিযান পরিচালনা করে একটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছে এবং ছয়টিকে জরিমানা করে লাইসেন্স নবায়নের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (সাধারণ শাখা) তানভীর হোসাইন সজীব।
তিনি জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যে ১৪টি ক্লিনিক ও হাসপাতালের তালিকা রয়েছে, তাদের অনেকেরই ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। অভিযানে এদের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হচ্ছে এবং ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে লাইসেন্স করার সময় দেওয়া হচ্ছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, সেফওয়ে হাসপাতাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে আগে একাধিকবার সতর্ক করার পরও লাইসেন্স নবায়ন না করায় ইতোমধ্যে সিলগালা করা হয়েছে। এখন যাদের সময় দেওয়া হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন না করলে তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, নগরের মির্জাজাঙ্গাল এলাকায় অবস্থিত ডিএমটি সেফওয়ে হাসপাতাল ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে লাইসেন্স নবায়ন করেনি। মানিকপীর টিলা এলাকার রয়েল শিশু হাসপাতাল ও নবাবরোড এলাকার নিরাময় পলি ক্লিনিক ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। আর আল-আমিন জেনারেল হাসপাতাল নবায়ন করেনি ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে। এ ছাড়া নগরের চৌহাট্টার সেন্ট্রাল হাসপাতাল, সুবহানীঘাটের মডার্ন জেনারেল হাসপাতাল এবং আরোগ্য পলি ক্লিনিক ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে লাইসেন্সবিহীন অবস্থায় চলছে।
তালিকায় থাকা মিরের ময়দানের ফেয়ার হেলথ হাসপাতাল, সুরমা ভ্যালি হাসপাতাল ও মেট্রো মেডিকেয়ার ক্লিনিক ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে এবং ডেল্টা স্পেশালাইজড ও কেয়ার হাসপাতাল ২০২৪-২৫ অর্থবছর থেকে লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই চলছে।
অন্যদিকে, শিবগঞ্জের সিলেট ফেকো সেন্টার এবং টুকেরবাজারের সিলেট মডেল চক্ষু হাসপাতাল ও ফেকো সেন্টার কখনো কোনো ধরনের লাইসেন্সই গ্রহণ করেনি।
জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ১৯৮২ সালের মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স-এর ৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় এবং চিকিৎসা সেবায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এই ১৪টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
ইতোমধ্যে বুধবার পর্যন্ত সাতটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ডিএমটি সেফওয়ে হাসপাতালকে সিলগালা এবং বাকি ছয়টিকে জরিমানা ও সতর্ক করে দ্রুত লাইসেন্স নবায়ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ছয়টি প্রতিষ্ঠান হলো— মডার্ন জেনারেল হাসপাতাল, সুরমা ভ্যালি হাসপাতাল, নিরাময় পলি ক্লিনিক, আল-আমিন জেনারেল হাসপাতাল, সিলেট ফেকো সেন্টার ও লায়ন্স শিশু হাসপাতাল।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, লাইসেন্স না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিঠি পাওয়ার পর জেলা প্রশাসন অভিযান শুরু করেছে। কাউকে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
.png)






