logo

নেশার টাকার জন্য খুন করে শপথ নেন দুই খুনি

নেশার টাকার জন্য খুন করে শপথ নেন দুই খুনি

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ৬৫ বছর বয়সি বৃদ্ধা রহিমা খুনের নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। নেশার টাকা জোগাড় করার জন্য তাকে খুন করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজন। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃদ্ধার ব্যবহৃত ফোনটি আড়াইশ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন তারা।

নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কুড়ার পাড় গ্রামের মৃত ফয়েজ উদ্দিনের স্ত্রী রহিমা বেওয়ার চার মেয়ে ও এক ছেলে। প্রায় এক যুগ আগে স্বামী মারা গেছেন। তিন মেয়ে ও একমাত্র ছেলে পরিবার নিয়ে দিল্লিতে থাকেন। সেখান থেকে মাসে তিন হাজার টাকা পাঠান। তা দিয়ে তার সংসার চলে। পাশের নাখারগঞ্জ বাজার এলাকায় থাকেন মেয়ে ফুলমালা। গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে বাড়ির আঙিনা থেকে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, রহিমা বেওয়ার সঙ্গী ছিলেন পাশের বাড়ির সমবয়সি অবিজন বেওয়া। পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল। গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে রহিমাকে দেখতে না পেয়ে তার বাড়িতে যান অবিজন। বাইরের দরজা খোলা পেয়ে ভেতরে ঢুকে রক্তাক্ত রহিমাকে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করেন। পরে লোকজন জড়ো হয়। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আসামি শামীম হোসেন শাহিন অবিজন বেওয়ার ছেলে সুলতান মিয়ার ছেলে।

নেশার টাকার জন্য খুন
আসামির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঘটনার আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির সময় ইয়াবা সেবন করে শামীমের ঘরে ফোনে লুডু খেলছিলেন চারজন। লুডু খেলা শেষে শামীমকে রেখে তিনজন বাড়ি চলে যান।

কিছুক্ষণ পর ফিরে আসেন একজন। পরে নেশার জন্য টাকা সংগ্রহ নিয়ে আলোচনা করেন তারা। মাঝরাতে ঘরের পেছনে সুপারি বাগান দিয়ে ছোট দরজা ভেঙে রহিমার বাড়িতে যান তারা।

বৃদ্ধাকে ঘুম থেকে ডেকে টাকা দাবি করেন দুজন। রহিমা টাকা নেই জানালে পুরো ঘরে টাকা খোঁজেন তারা। ঘরে টাকা না পেয়ে আবার বৃদ্ধাকে চাপ দেন দুজন। এ সময় বৃদ্ধা লোকজন ডাকতে চাইলে বাঁশ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। আরও কয়েকটি আঘাতের পর মৃত্যু নিশ্চিত করে তার ব্যবহৃত বাটন ফোনটি নিয়ে যান তারা। 

শপথ নেন খুনিরা
হত্যার পর শামীমের ঘরে গিয়ে কী করবে—এ নিয়ে আলোচনা করেন তারা। না পালানোর সিদ্ধান্ত নেন দুজন। তারা শপথ নেন—যাইহোক মুখ খুলবে না; কেউ কারও কথা বলবে না। সকালে ঘটনা জানাজানি হলে দুজন মরদেহও দেখতে আসেন। পরে পালিয়ে যান তারা। শামীম যান তার খালার বাড়ি। সেখানে সিম কার্ড ভেঙে খালাতো ভাইয়ের মাধ্যমে বৃদ্ধার ফোনটি বিক্রি করতে পাঠান। 

পুলিশের জালে খুনি
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহিল জামান এশিয়া পোস্টকে জানান, ঘটনার পরদিন (শনিবার) বেলাল ও আলম নামে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তারা রাতে লুডু খেলার তথ্য দেন। বৃদ্ধার ব্যবহৃত মুঠোফোনের নম্বর বন্ধ থাকলেও প্রযুক্তির মাধ্যমে ফোনটির অবস্থান নিশ্চিত হয় পুলিশ। উপজেলার স্কুলের হাটবাজারে একটি ওষুধের দোকানে ফোনটি কিছুক্ষণের জন্য চালু করা হয়। সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ।

ওই দোকানে ফোন না পেলেও বিক্রি করতে আসা লোকের তথ্য পাওয়া যায়। বিক্রি করতে আসা ব্যক্তিকে শনাক্ত করার পর তাকে শামীম পাঠিয়েছে নিশ্চিত হয় পুলিশ। রাতভর অভিযান চালিয়ে পাশ্ববর্তী ফুলাবাড়ী উপজেলার কাশিপুর দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকার খালার বাড়ি থেকে গত রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে শামীমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন সকালে আদালতে পাঠানো হয়। 

এলাকায় মাদককাণ্ড
নিয়মিত মাদক সেবন করে বাড়ির পাশে দোকানে আড্ডা দিতেন শামীমসহ কয়েকজন। তাদের আনাগোনায় অতিষ্ঠ ছিলেন এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে রামখানা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জালাল উদ্দীন এশিয়া পোস্টকে বলেন, কিছু মাদকসেবীর আড্ডায় এলাকায় মানুষের জীবন দুবির্ষহ হয়ে উঠেছে। বৃদ্ধা খুনের ঘটনার দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে মাদকসেবীদের জন্য শক্ত বার্তা যাবে। 

নাগেশ্বরী থানার ওসি আব্দুল্লাহিল জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডটি একেবারে ক্লুলেস ছিল। আমরা নানা দিক সামনে রেখে কাজ করছিলাম। খুনে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করার পর ঘটনাটি জানা যায়। আরেকজন পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।