মেরামত করা হলো গভীর রাতে কেটে দেওয়া হাওরের সেই বাঁধ

রাতের আঁধারে কেটে দেওয়া সুনামগঞ্জের শাল্লায় হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধটি মেরামত করা হয়েছে।
রোববার (১০ মে) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় বাঁশ, জিও ব্যাগ, বস্তা ফেলে এবং এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি দিয়ে বাঁধটি রক্ষা করা হয়।
এর আগে শনিবার (৯ মে) গভীর রাতে উপজেলার উদগল হাওরের নিয়ামতপুর ও জয়পুরের মধ্যের বাঁধটি কেটে দেয় দুষ্কৃতকারীরা। এতে ছায়ার হাওরে পানি ঢুকে বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, শাল্লা উপজেলার জয়পুর গ্রামের দক্ষিণ দিকে শনিবার রাতে উদগল হাওরের এই বাঁধটি কেটে দেয় দুষ্কৃতকারীরা। এতে উদগল হাওরে পানি ছায়ার হাওরে ঢুকছিল। তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় ছিল হাওরের বোরো ধান।
স্থানীয় কৃষকদের ধারণা, বাঁধের আশপাশের গ্রামের লোকজন হয়তো মাছ ধরার জন্য এমন কাজ করেছিল। এই বাঁধের পানি প্রবেশ বন্ধ করা না হলে ফসলের পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থাও বন্ধ হয়ে যেত। শাল্লা থেকে দিরাই ও সুনামগঞ্জ জেলা সদরে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই ফসলরক্ষা বাঁধ।
ছায়ার হাওরপাড়ের নিয়ামতপুর গ্রামের কৃষক জুয়েল দাস বলেন, অতিবৃষ্টিতে ফসল তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন আবহাওয়া ভালো হওয়ায় ফসল তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু রাতের আঁধারে কে বা কারা হাওরের বাঁধ কেটে দিয়েছিল। এই বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে কৃষকদের যে অবশিষ্ট ফসলগুলো ছিল, সেগুলো হয়তো তলিয়ে যেত। সবার প্রচেষ্টায় বাঁধ মেরামত করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পাউবোর শাল্লা উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী ওবায়দুল হক বলেন, শনিবার রাতের আঁধারে কে বা কারা বাঁধটি কেটে দিয়েছিল। মাটি ফেলে বাঁধটি পুনরায় মেরামত করা হয়েছে এবং হাওরে পানি ঢোকা বন্ধ হয়েছে।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, খবর পেয়ে আজ রোববার সকালেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। বাঁধটি পুনরায় মেরামত করা হয়েছে। এতে হাওরের বোরো ফসল ঝুঁকিমুক্ত হয়েছে। বাঁধ কাটায় জড়িতদের বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাউবোর শাখা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।