logo
Advertisement

সাতক্ষীরায় দুপুরের খাবার খেয়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু, হাসপাতালে ৪

সাতক্ষীরায় দুপুরের খাবার খেয়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু, হাসপাতালে ৪
মুদি ব্যবসায়ী মো. আজহারুল ইসলাম। ছবি : পারিবারিক সূত্রে পাওয়া

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল গ্রামে দুপুরের খাবার খেয়ে একই পরিবারের পাঁচজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, দুপুরের খাবারের সঙ্গে পটকা মাছ (টিপা মাছ) খাওয়ার পরই তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থেকে মুদি ব্যবসায়ী মো. আজহারুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আজহারুল ইসলাম বড়দল গ্রামের মৃত মজিদ গাজীর ছেলে। তিনি বড়দল বাজারের একজন মুদি ব্যবসায়ী ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, স্থানীয় একটি বাজার থেকে পটকা মাছ কিনে এনে রান্না করে খাওয়ার পর পরিবারের পাঁচ সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে গুরুতর অসুস্থ আজহারুল ইসলামকে সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

বর্তমানে আজহারুল ইসলামের স্ত্রী, মা, ছেলে ও মেয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় রেফার করা হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী শরিফুজ্জামান শরীফ দাবি, বাজার থেকে পটকা মাছ কিনে এনে রান্না করে খাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে একজনের মৃত্যু হয় এবং অন্যদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সাতক্ষীরা হার্ড ফাউন্ডেশনের পরিচালক ডা. ফয়সাল আহমেদ জানান, তাদের হাসপাতালে ওই পরিবারের তিনজন ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় মঙ্গলবার তাদের বাড়িতে পাঠানো হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, বড়দল মৎস্য সেড এলাকায় রবিউল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী পটকা মাছসহ বিভিন্ন বিষাক্ত মাছ প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রি করেন। সোমবার তার কাছ থেকেই কাটা পটকা মাছ কিনে ওই পরিবার নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীতিশ চন্দ্র গোলদার বলেন, পটকা মাছ খেলে বিষক্রিয়া হতে পারে। এ ধরনের মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে মানুষকে নিরুৎসাহিত করা হয়। তবে বড়দলের ঘটনাটি তার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ঘটনাটি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।