logo
Advertisement

প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে মাকে হত্যা, তিন বছর পর রহস্য উদ্‌ঘাটন

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কিশোরগঞ্জ
প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে মাকে হত্যা, তিন বছর পর রহস্য উদ্‌ঘাটন
ডান পাশে অভিযুক্ত চাম্পা আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

২০২৩ সালে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থেকে হালিমা (৬৫) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার মেয়ে চাম্পা আক্তার বাদী হয়ে প্রতিবেশী বিল্লালসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। সাড়ে তিন বছর পর আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তারা জানায়, প্রতিবেশীকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি দখল করতে নিজের মাকে হত্যা করেন চাম্পা আক্তার।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কিশোরগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

অভিযুক্ত চাম্পা আক্তার (৪৮) করিমগঞ্জ উপজেলার সিন্দ্বীপ গ্রামের বাসিন্দা ফয়েজ উদ্দীনের স্ত্রী।

পিবিআই জানায়, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাতে সিন্দ্বীপ গ্রামের বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন ৬৫ বছর বয়সি হালিমা। পরদিন বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরের একটি পতিত জমি থেকে তার নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার মেয়ে চাম্পা আক্তার বাদী হয়ে প্রতিবেশী বিল্লালসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি, পারিপার্শ্বিক আলামত ও বিস্তারিত সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে চাম্পার ভূমিকা শুরু থেকেই সন্দেহজনক মনে হয় পিবিআইয়ের। পরবর্তীতে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি নিজের মাকে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা সরাসরি স্বীকার করেন বলে দাবি করে সংস্থাটি।

পিবিআইয়ের ভাষ্যমতে, পূর্বশত্রুতার প্রতিশোধ নেওয়া এবং প্রতিবেশীদের হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি দখলের অসৎ উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৮ আগস্ট চাম্পা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজ অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক আশরাফুল আলম, খায়রুল বাশার, নবী হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।