logo

সিলেটের পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন, তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম সংকট

সিলেটের পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন, তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম সংকট

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার শঙ্কায় সিলেটের পেট্রোল পাম্পগুলোতে ভিড় করছেন মোটরসাইকেল চালকরা। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেল পর্যন্ত পাম্পে অকটেন-পেট্রোল-ডিজেলের জন্য দীর্ঘ লাইন লক্ষ করা গেছে।

জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি মাসে দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই। তেলেরও পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। তবে শুক্র ও শনিবার ডিপো বন্ধ থাকে। হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ার ফলে ক্রেতাদের অধিক চাহিদার কারণে অনেক পাম্পে তেলের কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। এই কারণে ২০০ টাকার বেশি পেট্রোল বা অকটেন বিক্রি করেছেন না পাম্প মালিকরা।

সরেজমিনে এদিন বিকেলে সিলেট নগরের সোবহানীঘাটে অবস্থিত বেঙ্গল গ্যাসোলিন অ্যান্ড সার্ভিসিং নামে একটি পেট্রোল পাম্পে গিয়ে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। পাম্পের কর্মচারীরা জানান, তারা মোটরসাইকেলপ্রতি ২০০ টাকার বেশি জ্বালানি দিচ্ছেন না। এতে অনেক চালক ক্ষোভ জানাচ্ছিলেন। দূরের পথযাত্রী চালকরা এই জ্বালানিতে গন্তব্যে পৌঁছা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

হাবিবুর রহমান নামের এক কাপড় ব্যবসায়ী জানান, জুমার নামাজ শেষে জানতে পারেন জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিতে পারে, তাই এসেছেন। কিন্তু মাত্র ২০০ টাকার অকটেন পেয়ে তিনি হতাশ।

নগরের পাঠানটুলা এলাকার পেট্রোল পাম্পে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। লাইন ধরে জ্বালানি সংগ্রহ করছেন চালকরা।

শামীম আহমদ নামের এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, যুদ্ধের কারণে পেট্রোলের দাম বেড়ে যেতে পারে। তাই একটু বেশি করে তেল কিনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পাম্প থেকে মাত্র ২০০ টাকার তেল দেওয়া হয়েছে।

পাম্পের ম্যানেজার রুপক দাস এশিয়া পোস্টকে বলেন, দাম বাড়ার কোনো খবর আমাদের কাছে নেই। যেহেতু সরকার মার্চে দাম অপরিবর্তিত রেখে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে এবং আমরা ঐ দামেই জ্বালানি তেল বিক্রি করছি।

এ বিষয়ে বেঙ্গল গ্যাসোলিনের মালিক ও সিলেট বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম আদনান এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমাদের কাছে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। বিশেষ করে পেট্রোল ও অকটেন সিলেটসহ পার্শ্ববর্তী ডিপোগুলো থেকে নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে। মাসের মাঝামাঝি সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। নিয়ম অনুযায়ী মাস শেষেই প্রয়োজন হলে মূল্য সমন্বয় করা হয়। তাই, অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে আমি মনে করি।

এ সময় তিনি পেট্রোল পাম্পগুলোতে অপ্রয়োজনীয় ভিড় না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির সময় ডিপো বন্ধ, এমতাবস্থায় অনেকেই আতঙ্কে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল সংগ্রহ করার চেষ্টা করছেন, যার ফলে সাময়িকভাবে কৃত্রিম সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। ফলে পেট্রোল পাম্পগুলো রেশনিং করে তেল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। কারও কারও মজুত রোববারের আগেই শেষ হয়ে গেছে। তিনি সবাইকে ধৈর্যশীল হওয়ার অনুরোধ জানান।