মুন্সীগঞ্জে পুলিশের সামনেই দুপক্ষের সংঘর্ষ

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পুলিশের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার টেঙ্গারচর ইউনিয়নের বড় ভাটেরচর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে ১২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন, মিসকাত, মানিক মিয়া, জোসনা বেগম, রিমন, মাজহারুল ইসলাম, ইউসুফ শেখ, অন্তর, ইকদাদুল, মোতালেব, হাইজুল, আমির আলী ও বাদল মিয়া। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে বড় ভাটেরচর পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা মারুফ ও সৌরভকে মারধর করে মধ্যপাড়ার একদল যুবক। ঘটনার পর গজারিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
শুক্রবার বিকেলে গজারিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করতে গ্রামে যায়। পুলিশ তদন্তকালে বাদীপক্ষের কয়েকজন স্বজন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে বাদী ও বিবাদী পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, রাত ৮টার দিকে আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়। আঘাত গুরুতর না হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন শেখ মো. সুলতান। তিনি অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার আমাদের পক্ষের দুজনকে মারধরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছিলাম। পুলিশ তদন্তে এলে আমরা সহযোগিতা করতে যাই। কিন্তু হামলাকারীরা পুনরায় আমাদের ওপর সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়।
অপরপক্ষের হাসান, রাব্বি ও সানজিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা গজারিয়া থানার এসআই ফিরোজ মিয়া বলেন, আমাদের তদন্তকালে হঠাৎ দুই পক্ষ বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। পরে আমরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করি।
গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, বড় ভাটেরচরে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।