ক্যানসার চিকিৎসায় নিঃস্ব ফুটবলার শাওন, গ্যালারিতে বসে দেখেন অন্যদের খেলা

পটুয়াখালীর স্থানীয় ফুটবল অঙ্গনে একসময় পরিচিত মুখ ছিলেন তরুণ শাওন সিকদার। মাঠে দৌড়ে বেড়ানো, গোলের জন্য লড়াই করা সেই ফুটবলার এখন ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছেন। অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানবেতর জীবন কাটছে তার।
প্রায় দুই বছর আগে কোমরে আঘাত পান শাওন। আঘাতের স্থানে ফোলা দেখা দেয়, যা সময়ের সঙ্গে তীব্র ব্যথায় রূপ নেয়। প্রথমে তাকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার কেমোথেরাপি শুরু হলেও অর্থ সংকটে তা আর চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
শাওনের মা সুফিয়া বেগম ভাসমান চায়ের দোকান চালিয়ে সংসার চালান। ছেলের চিকিৎসার জন্য নিজের সব সঞ্চয় ব্যয় করেছেন তিনি। এখন আর চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য নেই।
২১ বছর বয়সি শাওনের বাড়ি পটুয়াখালী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পিডিএস মাঠ এলাকায়। যে মাঠে একসময় খেলতেন, এখন সেই মাঠেই বসে অন্যদের খেলা দেখেন তিনি। অপূর্ণ থেকে গেছে তার স্বপ্ন।
শাওন বলেন, আমি এখন শুধু বসে বসে অন্যদের খেলা দেখি। আমার স্বপ্ন ছিল আবার মাঠে নামব, গোল করব। সবার সহযোগিতা পেলে আমি আবার নতুন করে জীবন শুরু করতে চাই।
সুফিয়া বেগম বলেন, আমার ছেলেকে সুস্থ দেখতে চাই। যা ছিল, সব খরচ করেছি। এখন আর কিছু করার নেই। মানুষ যদি সাহায্য করে, তাহলে হয়তো আমার ছেলে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।
শাওন ও তার পরিবার এখন সমাজের সহায়তার অপেক্ষায়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা পেলে এই তরুণ ফুটবলারের জীবন আবারও স্বাভাবিক ধারায় ফিরতে পারে—এমনটাই আশা তাদের।