logo

রাঙামাটিতে ফিলিং স্টেশনে সেনাবাহিনী মোতায়েন

রাঙামাটিতে ফিলিং স্টেশনে সেনাবাহিনী মোতায়েন

রাঙামাটি শহরে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। শহরের চারটি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে দুই দিন বিরতির পর বর্তমানে মাত্র একটি স্টেশনে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে শহরের মেসার্স মহসিন ফিলিং স্টেশনে অকটেন নিতে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সারি দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ দল সরবরাহব্যবস্থা তদারক করছে।

জেলা শহরে সীমিত পরিসরে জ্বালানি পাওয়া গেলেও উপজেলার খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ প্রায় বন্ধ। এতে কৃষিকাজে, বিশেষ করে বোরো ধানের সেচে বিঘ্ন ঘটছে। তেলের অভাবে অনেক এলাকায় খাবার পানি সংগ্রহেও সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে হতাশ অনেকে। ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটকরাও। ঢাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়িতে বেড়াতে আসা মো. তামিম হোসেন বলেন, ‘গতকাল থেকে বিভিন্ন পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি। আজ একটি পাম্পে পেলেও ৫০০ টাকার বেশি দিচ্ছে না। এত অল্প তেল নিয়ে ঢাকায় ফেরা কঠিন।’

স্থানীয় বাসিন্দা সীমা চাকমা জানান, তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটরের মাধ্যমে পানি তুলতে হয়। ‘তেলের অভাবে গতকাল পানি তুলতে পারিনি। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ৫০০ টাকার তেল পেয়েছি,’ বলেন তিনি।

মেসার্স মহসিন ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল বাতেন বলেন, ডিপো থেকে ২০২৫ সালের নির্ধারিত কোটার বেশি জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। আগে ৪ হাজার লিটার অকটেন চার দিনে বিক্রি হতো, এখন তিন থেকে চার ঘণ্টায় শেষ হয়ে যাচ্ছে, বলেন তিনি।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন জানান, শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিটি পাম্পে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি করে দল মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, যেখানে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে ভ্রাম্যমাণ দল অভিযান চালাচ্ছে। কেউ যাতে জ্বালানি মজুত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।