logo

সিরাজগঞ্জে সেচের অভাবে বোরো উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা

সিরাজগঞ্জে সেচের অভাবে বোরো উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা

ডিজেল সংকটে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বোরো ধান উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন সিরাজগঞ্জের কৃষকরা। চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না পাওয়া এবং খোলা বাজারে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হওয়ায় বাড়ছে উৎপাদন খরচ। এতে আর্থিক চাপের পাশাপাশি ফলন উৎপাদন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে কৃষকদের মাঝে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শস্য ভান্ডারখ্যাত সিরাজগঞ্জে ডিজেল সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কৃষি খাতে। চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হচ্ছে। এর মধ্যে ৫২ হাজার ৭০২ হেক্টর জমিতে চলছে ৩৬ হাজার ১১৭টি ডিজেলচালিত সেচ পাম্প। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে এসব পাম্প সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। ধানের শীষ আসার গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে সেচ পাম্প চালু রাখতে না পারলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষকরা।

কৃষক সেরাজুল ইসলাম বলেন, ডিজেল সংকটের কারণে অন্যান্য বারের চেয়ে এবার বোরো ধান উৎপাদনে খরচ বেড়ে যাচ্ছে কয়েক গুণ বেশি। তাও আবার সঠিকভাবে এবার ধান ঘরে তুলতে পারব কিনা সেটাও বলতে পারি না। কারণ ডিজেল সংকটে জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।‌ 

তিনি আরও বলেন, চলতি মৌসুমে ৫ বিঘা জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছি। প্রতিদিন প্রায় ৫-৬ লিটার ডিজেল লাগে জমিতে সেচ দিতে। গতকাল চর থেকে তিন লিটার ডিজেল কিনে এনেছি ১৩০ টাকা করে, যা আগে কিনতাম ১০৫ টাকা করে। ডিজেল সংকটের কারণে সঠিকভাবে জমিতে সেচ দিতে পারছি না। যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে ফসল ঘরে তুলতে পারব না। এতে আমাদের কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক একেএম মনজুরে মাওলা বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ চলছে। প্রকৃত কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে ডিজেল পৌঁছে দিতে প্রশাসন এবং সেচ পরিচালনা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের তালিকা তৈরি করছে। ফুয়েল কার্ডের মতো আমরাও কৃষকদের জন্য কার্ডের ব্যবস্থা করেছি। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল সংগ্রহ করে জমিতে সেচ কার্যক্রম চালাতে পারবেন। 

চর অঞ্চলের কৃষকরা ডিজেল পাচ্ছেন না এবং তাদের সঙ্গে কৃষি অফিস থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো যোগাযোগ করা হয়নি এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আপনারা জানেন, আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের একটি অংশ পেট্রোল পাম্পগুলোতে ট্যাগ অফিসার হিসেবে কাজ করছেন। যার কারণে অনেক কৃষকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে কৃষকরা যদি আমার সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিসে যোগাযোগ করে তাহলে অবশ্যই তাদের ডিজেল সংগ্রহের জন্য কার্ড দেওয়া হবে।