নড়াইলে ৪ জন হত্যার ঘটনায় আটক ৬

নড়াইলে বড়কুলা গ্রামে বাবা-ছেলেসহ চারজনকে হত্যার ঘটনায় ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ ও র্যাব। তবে আটককৃতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এলাকায় এখনও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিহত চারজনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
এর আগে, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন খলিল শেখ (৭০), তার ছেলে তাহাজ্জত শেখ (৪১), ফেরদাউস হোসেন (৪০) ও ওসিকুর ফকির (৩৬)। এর মধ্যে খলিল, তাহাজ্জত ও ফেরদাউস একই পক্ষের এবং ওসিকুর ফকির প্রতিপক্ষের সদস্য বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শিঙ্গাশোল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. খায়রুজ্জামান ওরফে খায়ের মোল্যার পক্ষের রহমত হোসেনের লোকজনের সঙ্গে খলিল শেখের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলে আসছিল। নিহতরা মূলত তারাপুর গ্রামের বাসিন্দা হলেও প্রায় ৯-১০ বছর আগে গ্রাম্য মারামারি এড়িয়ে পাশের বড়কুলা গ্রামে এসে বসবাস শুরু করেন। তবে স্থান পরিবর্তন করেও বিরোধ থামেনি; দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল। সম্প্রতি বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। এরই জেরে সোমবার ভোরে বড়কুলা এলাকায় দুপক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ঘটনাস্থলেই খলিল শেখ, তার ছেলে তাহাজ্জুদ শেখ ও ফেরদৌস শেখ নিহত হন।
এ ঘটনায় উভয়পক্ষের আরও অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি আটজন নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে, সংঘর্ষে গুরুতর আহত ওসিকুর ফকিরকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিপক্ষের লোকজনের ৭ থেকে ৮টি বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এতে কয়েকটি ঘরবাড়ি পুড়ে যায় এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নিহত খলিল শেখের স্ত্রী মঞ্জুরা বেগম অভিযোগ করেন, সোমবার ভোরে সাহরি খাওয়ার পর ঘুমানোর প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তারাপুর গ্রাম থেকে সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের মোল্যার পক্ষের ৫০ থেকে ৫৫ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা খলিল শেখ ও তার ছেলে তাহাজ্জত শেখকে ঘর থেকে বের করে এনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। একই সময় ফেরদাউস হোসেনকেও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এ বিষয়ে নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।