চুরির অভিযোগে শিশুর মুখে সিগারেটের ছ্যাঁকা

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় ৮০০ টাকা চুরির অভিযোগে দুই শিশুকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক মুদি দোকানির বিরুদ্ধে। এ সময় এক শিশুর মুখে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় সদর থানায় একটি অভিযোগ করা হয়েছে বলে শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদ পারভেজ নিশ্চিত করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে লক্ষ্মীপুর শহরের দক্ষিণ মার্কাস মসজিদ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
আহত দুই শিশু হলো—সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী এলাকার আবদুস সহিদের ছেলে মুজাহিদ হোসেন (৯) এবং ভবানীগঞ্জের চরউভূতি এলাকার জিয়াউল হকের ছেলে জিহান হোসেন (১২)।
মুজাহিদ স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র এবং জিহান মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তারা লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরের মার্কাস মসজিদ এলাকায় মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তির মুদি দোকান আছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার দোকান থেকে ৮০০ টাকা চুরি হয়। এই চুরির সন্দেহে মুজাহিদ ও জিহানকে ধরেন মনির ও তার সহযোগীরা। এরপর শুরু হয় নির্যাতন। ‘চোর ধরা পড়েছে’ বলে প্রচারণা চালিয়ে সবার সামনে দুই শিশুর হাত বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে বড় শিশু জিহানের মুখে সিগারেটের আগুন দিয়ে ছ্যাঁকা দেন মনির।
নির্যাতিত শিশুদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, নির্যাতনের পর তাদের খবর দেওয়া হয়। শিশুদের ছাড়িয়ে নিতে মনির তাদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন। পরে আহত অবস্থায় শিশুদের উদ্ধার করে রাত ১১টার দিকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিযুক্ত দোকানি মনির হোসেন নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমার ক্যাশ থেকে ওরা ৮০০ টাকা চুরি করেছে। সেটা স্বীকারও করেছে। আমি শুধু একটা থাপ্পড় দিয়েছি, হাত বেঁধে মারধর বা সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়ার বিষয় আমি জানি না।
চিকিৎসাধীন শিশুদের অবস্থা নিয়ে সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, দুই শিশুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে এক শিশুর মুখে সিগারেটের ছ্যাঁকার স্পষ্ট ক্ষত দেখা গেছে। তাদের যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। শিশুদের ওপর নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।