ট্রেন দুর্ঘটনায় বড় ভাইয়ের মৃত্যু, শোকে মারা গেলেন ছোট ভাই

চট্টগ্রাম নগরীতে ট্রেন দুর্ঘটনায় বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ছোট ভাইয়েরও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। একই দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সহোদরের এমন আকস্মিক বিয়োগে পরিবার ও নিজ এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর ২ নম্বর গেট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের চাপাছড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক ম্যানেজার এ কে এম শামসুদ্দিন আহমেদ খোকন বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর ২ নম্বর গেট এলাকায় কেনাকাটা করতে যান। বাজার শেষে বাসায় ফেরার পথে একটি দ্রুতগামী ট্রেন তাকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে বড় ভাইয়ের এই আকস্মিক মৃত্যুর খবরটি চট্টগ্রাম নগরীর রহমাননগর নাসিরাবাদস্থ বাসভবনে পৌঁছালে পরিবারে কান্নার রোল পড়ে।
নিহতের ছোট ভাই মোহাম্মদ পেয়ারু (৬৮) দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে তিনি প্রচণ্ড মানসিক আঘাত পান এবং মুহূর্তের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত (হার্ট অ্যাটাক) হন। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহতদের আরেক ভাই ও বাঁশখালী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দীন রবি জানান, বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবরটি পাওয়ার পর মেজো ভাই (মোহাম্মদ পেয়ারু) মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। একই দিনে দুই ভাইকে হারানো আমাদের পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
নিহত দুই সহোদর বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চাপাছড়ি এলাকার মৃত ছাবের আহমদের পুত্র। একই দিনে দুই সন্তানের মৃত্যুতে তাদের গ্রামের বাড়ি ও চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ এলাকায় নেমে এসেছে বিষাদের কালো ছায়া।



