চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিলাবৃষ্টিতে ৫৪৫১ হেক্টর আমের ক্ষতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আমের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলের এই দুর্যোগে জেলায় ৫ হাজার ৪৫১ হেক্টর আম বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে করে চলতি মৌসুমে আমের ফলন ও গুণমান নিয়ে বড় ধরনের দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় আম চাষিরা। বুধবার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিলাবৃষ্টির কবলে পড়েছে ৫ হাজার ৪৫১ হেক্টর আমবাগান। এ ছাড়া ১ হাজার ৫৩৬ হেক্টর বোরো ধান, ১৫০ হেক্টর সবজি এবং ২ হেক্টর পান বরজের ক্ষতি হয়েছে। তবে এই শিলাবৃষ্টিতে মাঠে থাকা কৃষকের আবাদ করা ভুট্টার কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠানটি। মূলত জেলা সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর ও নাচোল উপজেলার ওপর দিয়ে এই ঝড় বয়ে গেছে। এদিকে জেলার চারটি উপজেলায় শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হলেও ভোলাহাট উপজেলায় বড় কোনো ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় চাষিরা জানান, মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎ শুরু হওয়া ঝোড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টির স্থায়িত্ব কম হলেও এর তীব্রতা ছিল অনেক বেশি। শিবগঞ্জের আম চাষি জহরুল হক বলেন, বাগানের নিচে ঝরে পড়া আমের গুটি দেখে মনে হচ্ছে সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। আর যেসব আম গাছে টিকে আছে, সেগুলোতেও শিলার আঘাতের চিহ্ন। এই আম বড় হলেও দাগ থেকে যাবে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষি বিভাগ এরই মধ্যে তৎপরতা শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনিসুল হক দুলাল জানান, তারা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে শিলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত আমে যাতে পচন না ধরে, সে জন্য দ্রুত ছত্রাকনাশক স্প্রে করার জন্য চাষিদের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. ইয়াছিন আলী বলেন, শিলাবৃষ্টিতে আক্রান্ত মোট ৭ হাজার ১৩৯ হেক্টর জমির ফসলের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশই হলো আম। শুধু শিবগঞ্জ উপজেলাতেই ৪ হাজার ৮৭৫ হেক্টর আম বাগান ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ ছাড়া সদর, গোমস্তাপুর ও নাচোল উপজেলাতেও আমের গুটি ঝরে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত চার উপজেলার মাঠপর্যায়ের কর্মীরা সরাসরি কৃষকদের পাশে আছেন। আমরা চেষ্টা করছি যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ক্ষতির পরিমাণ সর্বনিম্ন রাখা যায়।