নির্বাচনি প্রচারে জামায়াতের নারী কর্মীদের মারধরের অভিযোগ

পাবনা-২ সংসদীয় আসনের পাবনার সুজানগরে নির্বাচনি প্রচারের সময় নারীকর্মীসহ জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাধা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দুই নারী কর্মীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জনকে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়াও পৌর এলাকার চর সুজানগর এবং আহমদপুরের সৈয়দপুরে জামায়াত কর্মীদের বাধা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে সুজানগর উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের রায়পুর মাঝপাড়া, চর সুজানগর এবং আহমদপুরের সৈয়দপুরে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— উপজেলা জামায়াতের ওলামা বিভাগের সভাপতি হাফেজ মাও. রফিকুল ইসলাম, সহসভাপতি হাফেজ আমিনুল ইসলাম শিমুল, ওলামা বিভাগের পৌর সভাপতি মাওলানা ইনামুল হক, জামায়াতের নারী কর্মী মার্জিয়া খাতুন ও ফিরোজা বেগম। বাকিদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি।
আহত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মানিকহাট ইউনিয়নের মাওলানা রফিকুল ইসলামের বাড়িতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভোটের প্রচার চালাতে যান। এ সময় হুমায়ূন, সুমন, সেলিম, বন্দের মোল্লাসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রথমে নারী কর্মীদের বাধা দেন। পরে তাদের মারধর করলে পাশে থাকা পুরুষ কর্মীরা এগিয়ে যান। এ সময় তাদেরও এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ছাড়াও সুজানগর পৌর এলাকার চর সুজানগরের নারী কর্মীদের বাধা ও মারধর করা হয়। আর আহমদপুর ইউনিয়নের সৈয়দপুরে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের প্রচারে বাধা দেওয়া হয়।
এসব ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীরা। মিছিলটি ভবানিপুর পশ্চিমপাড়া থেকে শুরু হয়ে সুজানগর বাজার প্রদক্ষিণ করে আবার ভবানিপুর পশ্চিম পাড়ায় গিয়ে শেষ হয়।
এ বিষয়ে পাবনা-২ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মীর রাশেদুজ্জামান এশিয়া পোস্টকে জানান, আজকে সুজানগরে ৩টি ঘটনা জানতে পেরেছি। ইতোমধ্যে আমরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে পাবনা-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী সেলিম রেজা হাবিব এশিয়া পোস্টকে বলেন, এগুলো কী হচ্ছে আমি নিজেই বুঝতে পারছি না। যারা অভিযুক্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমি ইউএনওকে (সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা) জানিয়েছি।