ঈদের ছুটি ঘিরে পর্যটক বরণে প্রস্তুত ‘চায়ের রাজ্য’

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি ঘিরে ভ্রমণপিপাসু পর্যটক বরণে প্রস্তুত হয়ে উঠেছে চায়ের রাজ্যখ্যাত জেলা মৌলভীবাজার। জেলার পাঁচতারকা হোটেল-রিসোর্ট ও গেস্ট হাউজগুলো ঘোষণা করেছে নানা আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রস্তুতি।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, শ্রীমঙ্গল শহরের বাইরে রাধানগরে থাকা প্রায় অর্ধশত রিসোর্ট ও কটেজের ৯৫ শতাংশ বুকিং এর মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। চলতি মাসের ২২ থেকে ২৪ তারিখ এই তিন দিনের জন্য বুকিং নেওয়া হয়েছে। মূলত এ তিন দিনকেই ঈদ ভ্রমণের ‘পিক টাইম’ হিসেবে ধরা হচ্ছে। ঈদকে ঘিরে শেষ পর্যন্ত শতভাগ রুম বুকড হয়ে যাবে বলে আশা করছেন রিসোর্ট ও কটেজ মালিকরা। অন্যদিকে শহরের হোটেলগুলোতে এখনও তেমন চাপ পড়েনি। অধিকাংশ হোটেলে প্রায় ৫০ শতাংশ বা এরও কম রুম বুকিং হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। পাঁচতারকা রিসোর্টসহ শতাধিক রিসোর্ট, কটেজ, হোটেল ও গেস্টহাউস প্রস্তুত করা হয়েছে পর্যটকদের বরণে। এছাড়াও বিভিন্ন নামি-দামি চাইনিজ ও থাই খাবারের ক্যাফে-রেস্টুরেন্টগুলো নতুন করে সাজানো হয়েছে। পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে বাংলা, চাইনিজ ও থাই খাবারের পাশাপাশি আদিবাসী খাবারও রাখা হয়েছে মেন্যুতে।
প্রতিবছরই সিলেটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পর্যটক সমাগম ঘটে ‘চায়ের দেশ’ খ্যাত শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলায়। সবুজে মোড়া উঁচু-নিচু চা বাগান, মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এ অঞ্চল অত্যন্ত জনপ্রিয়। শ্রীমঙ্গলের চা বাগান, হাইল হাওর, বাইক্কার বিল, চা কন্যা ভাস্কর্য, বধ্যভূমি ৭১, বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্র, কমলগঞ্জের চা বাগান, খাসিয়া পুঞ্জি, মনিপুরী সম্প্রদায়ের তাঁতশিল্প, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, সীমান্তবর্তী ধলই চা বাগানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ এবং মাধবপুর লেকসহ অসংখ্য পর্যটন স্পট ঘুরে দেখতে ঈদের ছুটিতে প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এখানে ভিড় জমান।
কমলগঞ্জের টিলাগাঁও ইকো ভিলেজের ব্যবস্থাপক সোহেল আহমেদ ও অরন্যনিবাস ইকো রিসোর্টের পরিচালক সবুজ আহমেদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আসন্ন ঈদে পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে আমরা বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। বরাবরের মতো এবারও ঈদকে ঘিরে বেশ ভালো বুকিং হয়েছে।’
শ্রীমঙ্গলের বালিশিরা রিসোর্টের পরিচালক (পরিচালনা ও প্রশাসন) জাহানারা আক্তার বলেন, ‘ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্ট সুন্দরভাবে সাজিয়েছি। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আগামী ২১ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত প্রায় ৮৫ শতাংশ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে।’
পাঁচতারকা মানের গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফের জেনারেল ম্যানেজার আরমান খান বলেন, ‘বরাবরের মতো এবারও ঈদকে ঘিরে রিসোর্টটিতে বেশ ভালো বুকিং হয়েছে। ঈদের সময়ে সাধারণত বিদেশি পর্যটক খুব একটা আসেন না, তবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকদের আগমন বেশি থাকে। সব মিলিয়ে বর্তমানে আমাদের বুকিং প্রায় শতভাগ পূর্ণ হয়ে গেছে।’
পর্যটন সেবা সংস্থা সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম আহমেদ বলেন, ‘ঈদুল ফিতরের ছুটিকে সামনে রেখে শ্রীমঙ্গলে মোটামুটি ভালো পর্যটক সমাগমের আশা করা যাচ্ছে।’
ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। বিভিন্ন পর্যটন স্পটে আমাদের টহল ব্যবস্থা সার্বক্ষণিকভাবে চালু থাকবে। জেলা পুলিশের সমন্বয়ে উপজেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি যৌথভাবে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।’