ভৈরবে ফের দুই গ্রামের সংঘর্ষ, টেঁটা-বল্লমের আঘাতে আহত ২০

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাজারের নামকরণের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের জেরে দুই গ্রামবাসীর ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর আগে গত ২৭ জুলাই একই দ্বন্দ্বের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশকিছু দোকানপাট ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে আহতরা ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর ও মিরারচর গ্রাম ঘেঁষে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবস্থিত। মহাসড়কের ওই বাসস্ট্যান্ড ও বাজারের নামকরণের দাবি নিয়ে কয়েক দশক ধরে দুই গ্রামের মধ্যে বিরোধ চলছিল। আকবরনগরের বাসিন্দাদের দাবি বাজারটি আকবরনগর নামে হতে হবে, অন্যদিকে মিরারচরের বাসিন্দাদের দাবি এটি মিরারচর বাসস্ট্যান্ড নামে নামকরণ করতে হবে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে অন্তত পাঁচবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ একাধিকবার সালিশ বৈঠক করলেও কোনো স্থায়ী সুরাহা হয়নি।
পুলিশ জানায়, রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে মিরারচর গ্রামের কয়েকজন যুবক বাজারে গেলে আকবরনগরের যুবকদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এর জেরে উভয় পক্ষের লোকজন ইটপাটকেল, লাঠিসোঁটা, দা, বল্লম ও টেঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েকটি টিয়ারগ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।
ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ বলেন, বাজারের নামকরণ নিয়ে দুই গ্রামের লোকজন আবারও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিল। পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।


