সুনামগঞ্জে হামের রোগী বাড়লেও হাসপাতালে নেই ওষুধ

সারা দেশের মতো সুনামগঞ্জেও হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। ঈদের পর আবারও রোগীর চাপ বেড়েছে। গত এপ্রিল ও মে মাসে জেলায় ১ হাজার ৪০০-এর বেশি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে ২৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও একটি শিশু। বর্তমানে ২৫০ শয্যার সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রায় ১০০ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় ও সদর হাসপাতাল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এদিকে হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসাসেবা মিললেও সরকারি ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় প্রায় সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও পরিচালক ডা. মাহবুবুর রহমান ওষুধ সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নতুন অর্থবছরে বরাদ্দ পাওয়া গেলে ওষুধ কেনা হবে।
জানা গেছে, সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলায় প্রায় ২৮ লাখ মানুষের বসবাস। মার্চের শেষ দিকে জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। গত দুই মাসে আক্রান্ত হওয়া শিশুরা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।
বর্তমানে সদর হাসপাতালের ৫০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে শতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছে। শয্যাসংকটের কারণে অনেক শিশুকে মেঝে ও করিডোরে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। ঈদের আগে রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমলেও পরে আবার বাড়তে শুরু করেছে।
সদর হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে ভর্তি দেড় বছরের শিশু তাইবার বাবা তোফায়েল আহমদ বলেন, আমার মেয়ে ১৫ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি। কিন্তু হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ পাইনি। সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। ক্যানুলা ও স্যালাইন পর্যন্ত কিনে আনতে হয়েছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা তাজুদ আলী তার আট বছরের মেয়ে জুমা আক্তারকে নিয়ে হাসপাতালের করিডোরে অবস্থান করছিলেন। তিনি বলেন, কোনো শয্যা খালি না থাকায় করিডোরেই থাকতে হচ্ছে। মেয়েকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি।
দুই বছর বয়সি শিশু আবু বক্কর সিদ্দিকের মা মহিমা বেগম বলেন, সাত দিন ধরে হাসপাতালের মেঝেতে থেকে ছেলের চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসক বলেছেন, আরও কয়েক দিন থাকতে হবে।
জামালগঞ্জ উপজেলার সুজাতপুর গ্রামের কলমধর আলী বলেন, সরকারি চিকিৎসার আশায় নাতিকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলাম। কিন্তু ওষুধ পাইনি। গরিব মানুষ হিসেবে সব ওষুধ কেনাও সম্ভব হচ্ছে না।
সদর হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স তাহমিনা খাতুন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ঈদের পর আবার রোগী বাড়ছে। শয্যার তুলনায় রোগী বেশি হওয়ায় অনেককে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের শিশু ও কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা. আশুতোষ সিংহ এশিয়া পোস্টকে বলেন, জেলার অনেক দুর্গম এলাকায় টিকাদানের হার কম। পাশাপাশি অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর সংখ্যাও বেশি। এ কারণে হামের প্রকোপ বেড়েছে। তিনি বলেন, নিয়মিত টিকা গ্রহণই হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ঈদের পর রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। হাসপাতালে শতাধিক হাম রোগী ভর্তি রয়েছে। তবে নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
.png)

