logo

গোপালগঞ্জ/এক বিলেই লাল, গোলাপি ও সাদা পদ্ম—মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

এক বিলেই লাল, গোলাপি ও সাদা পদ্ম—মুগ্ধ দর্শনার্থীরা
বলাকইড় পদ্মবিলে প্রাকৃতিকভাবে ফুটে থাকা অসংখ্য পদ্মফুল। ছবি : এশিয়া পোস্ট

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বলাকইড় বিলে ফুটেছে লাল, গোলাপি ও সাদা পদ্ম। সবুজ পাতার ফাঁকে ফুটে থাকা এসব পদ্মের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। নৌকায় ঘুরে বিলের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি পদ্মফুল বিক্রি ও নৌকা চালিয়ে বাড়তি আয় করছেন স্থানীয়রা।

জেলা শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে বলাকইড় গ্রামে এ বিলের অবস্থান। স্থানীয়দের ভাষ্য, ১৯৮৮ সালের বন্যার পর থেকে বর্ষায় এখানে প্রাকৃতিকভাবে পদ্মের বিস্তার শুরু হয়। বর্তমানে বিলের বড় অংশজুড়ে দেখা যায় নানা রঙের পদ্ম।

বলাকইড় পদ্মবিলের মনোরম দৃশ্য। ছবি: এশিয়া পোস্ট
বলাকইড় পদ্মবিলের মনোরম দৃশ্য। ছবি: এশিয়া পোস্ট

সকাল থেকেই পরিবার, বন্ধু ও শিক্ষার্থীরা নৌকা নিয়ে বিলে ঘুরছেন। ছুটির দিনে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় মাঝি মনু মিয়া বলেন, প্রায় প্রতিদিনই মানুষ পদ্মবিল দেখতে আসে। ছুটির দিনে ভিড় আরও বাড়ে। নৌকায় ঘুরিয়ে আমরা বাড়তি আয় করি। বিলের সৌন্দর্য রক্ষায় সব নৌকায় ঝুড়ি রাখা হয়েছে, যাতে কেউ ময়লা-আবর্জনা বা প্লাস্টিক পানিতে না ফেলে।

পদ্মবিল ঘিরে আয় করছেন স্থানীয় ফুল সংগ্রহকারীরাও। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত বিল থেকে পদ্মফুল সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করেন তারা। স্থানীয়দের দাবি, গোপালগঞ্জ শহরে প্রতিটি পদ্মফুল ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

দর্শনার্থী তাসমিয়া ইসলাম দোলা বলেন, অপরূপ সৌন্দর্যের পদ্মবিল আমাকে নির্মল আনন্দ দিয়েছে। এ বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে হবে।

গোপালগঞ্জ সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, পদ্ম বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা গেলে কৃষকেরা লাভবান হতে পারেন। তবে বিলের পরিবেশ রক্ষায় প্লাস্টিক-পলিথিনসহ বর্জ্য না ফেলা এবং অযথা পদ্মফুল ও পাতা নষ্ট না করার পরামর্শ দেন তিনি।