logo

যুবকরা ফ্যাসিস্টদের বিদায় করেছে, ভোট ডাকাতদের ক্ষেত্রে ব্যাপারই না 

যুবকরা ফ্যাসিস্টদের বিদায় করেছে, ভোট ডাকাতদের ক্ষেত্রে ব্যাপারই না 

যুবকরা ফ্যাসিস্টদের বিদায় করেছে, ভোট ডাকাতদের বিদায় করা তো ব্যাপারই না—এমন মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। 

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গাজীপুরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ী মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভোটের দিকে অন্যায়ভাবে কেউ হাত বাড়ালে সেই হাত স্তব্ধ করে দিতে হবে। যুবসমাজ কাউকে ক্ষমা করবে না, চরম ফ্যাসিস্টকে ক্ষমা করে নাই; খালি হাতে বুক উঁচিয়ে ফ্যাসিস্টকে বিদায় করেছে। আর এসব ভোট ডাকাতকে বিদায় দেওয়া ব্যাপারই না।

জামায়াত আমির বলেন, পুরো গাজীপুরটা এখন শিল্প এলাকায় পরিণত হয়েছে, যেখানে থাকবে নিরাপত্তা। কিন্তু এখানে না আছে শ্রমিক নিরাপত্তা, না আছে শৃঙ্খলা, না আছে তাদের মৌলিক অধিকার। আপনাদের ভোটে ১২ তারিখের দিন যদি আমাদের সরকার কায়েম হয়, শ্রমিকদের জীবন পরিবর্তন হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সম্মান দেওয়া হয় না, বেতনবৈষম্য আছে। এসব বৈষম্যকে আমরা সমান করে ফেলব ইনশাআল্লাহ। কর্মক্ষেত্রে কাজ সমান কিন্তু তবুও বৈষম্য। কর্মক্ষেত্রে তাদের বেতনও কম। আমরা ক্ষমতায় গেলে কোনো বৈষম্য রাখব না।

তিনি বলেন, মায়েদের ক্ষেত্রে আমরা ঘোষণা করেছি। অন্তত দুই থেকে আড়াই বছর, যখন শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়াতে হয়। এ সময় মায়েরা কাজ করবেন দৈনিক ৫ ঘণ্টা। বাকি ৩ ঘণ্টা বাচ্চাকে সময় দেবেন। এটা বাচ্চার অধিকার। অনেকেই বলে এটা কেমন কথা, এতে তাদের আয় কমে যাবে। তবে আমরা বলছি আয়-রোজগার কমবে না। বাকি তিন ঘণ্টার বেতন দেবে সরকার ও সমাজসেবা অধিদপ্তর। এটা তাদের অধিকার, সরকারকে দিতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, বাচ্চার লালন-পালনের জন্য অবশ্যই ডে-কেয়ার সেন্টার থাকতে হবে। সেখানে গিয়ে বাচ্চাকে মা দুধ খাওয়াবে, খবর নেবে। যাতে একজন মা তার সন্তানের সেবা করতে পারে এবং পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারে। অনেকেই বলছেন, নারীদের ঘরের ভেতর ঢুকিয়ে রাখবে আমির সাহেব। নো, মায়েদের সম্মান জানানোই আমাদের উদ্দেশ্য।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সবাই আন্দোলন করেছে ন্যায়বিচারের জন্য। ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলে সবার অধিকার সমুন্নত থাকবে। কারও কাছে মিছিল করে চাঁদা চায়নি, বেকার ভাতা চায়নি, ফ্যামিলি কার্ড চায়নি। তারা কাজ চেয়েছে। তারা কাজ করে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চায়। প্রিয় বন্ধুরা আমরা কারও হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে অসম্মানিত করতে পারব না। আমরা সঠিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রত্যেক যুবক-যুবতীর হাতকে শক্তিশালী করব ইনশাআল্লাহ। কাজ তুলে দিয়ে বলব, এটাই তোমাদের বাংলাদেশ। তোমরা তৈরি হয়ে যাও, বাংলাদেশ গড়ে তোলো। তারা কাজ করবে আর পেছনে তাকাবে না ওরা। 

তিনি বলেন, একদল লোক আছে শুধু পেছন নিয়ে কামড়াকামড়ি করে। এদের স্বাভাবটা চিংড়ি মাছের মতো। চিংড়ি মাছ দৌড়াতে গেলে পেছনের দিকে যায়। আমরা তো মানবজাতি, আমরা পেছনে যাব না। আমরা দেশ নিয়ে সামনে এগিয়ে যাব। তারা ইসলামের পক্ষে গণজাগরণ দেখে দিশাহারা হয়ে গেছে। আমরা তাদের অনুরোধ করি কোনো মায়ের গায়ে হাত দেবে না, সাবধান। তোমরা যদি মায়ের সম্মান করতে পারো, তবে বাংলাদেশকে সম্মান করতে পারবা। যারা মায়ের সম্মান করে না তারা আল্লাহকে সম্মান করে না। এই কথা বলি দেখে ওরা আমার পেছনে লেগেছে, আমি কাউকে ভয় করি? আমি একমাত্র আল্লাহকে ভয় করি।

গাজীপুরবাসীকে জামায়াতের আমির বলেন, আমাদের প্রার্থীদের ভোট দিলে কথা দিচ্ছি, গাজীপুরের লোকদের প্রতি আমরা বেইনসাফি করব না। যারা দেশের টাকা বাইরে পাচার করেছে আমরা ক্ষমতা পেলে ওদের পেটের ভেতর থেকে টাকা বের করে নিয়ে আসব। নিজেদের উন্নয়ন করব না, ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য বদলের উন্নয়ন করব ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, রাজার ছেলে রাজা হবে, এটা আর হবে না। আমি জামায়াতে ইসলামীর লিডার হতে চাই না। আমরা ১৮ কোটি মানুষের লিডার হতে চাই। দুর্নীতির শাসন আমরা চাই না, আমরা চাই ন্যায় ও ঐকমত্যের শাসন। প্রিয় দেশবাসী, আমরা একটা ইনসাফপূর্ণ দেশ চাই। আমাদের অঙ্গীকার দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার। 

গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মুহাম্মদ জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন, গাজীপুর জেলা জামায়াতের আমির ড. জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, গাজীপুর ১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী সাবেক সচিব শাহ আলম বকশী, গাজীপুর ২ আসনের এনসিপি প্রার্থী আলী নাসের খান, গাজীপুর ৩ আসনের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এহসানুল হক, গাজীপুর ৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আইউয়ুবী, গাজীপুর ৫ আসনের জামায়াতের প্রার্থী খায়রুল হাসান, বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ থানা ও মহানগর জামায়াতের নেতারা।