logo

বিটরুট চাষে নতুন সম্ভাবনা জয়পুরহাটে

বিটরুট চাষে নতুন সম্ভাবনা জয়পুরহাটে

উত্তর-পশ্চিম সীমান্তঘেরা জনপদ জয়পুরহাটে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার নাম এখন বিটরুট। একসময় শহরের সুপারশপ বা অভিজাত হোটেলের সালাদে সীমাবদ্ধ থাকা লাল রঙের এই সবজি এখন গ্রামাঞ্চলের মাঠেও চাষ হচ্ছে। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা বাড়ছে। এতে খুশি স্থানীয় কৃষকরা।

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে প্রায় ১ হেক্টর জমিতে বিটরুট চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, এ অঞ্চলের দোআঁশ মাটি ও অনুকূল আবহাওয়া বিটরুট চাষের জন্য উপযোগী। কম খরচে ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকেরা আগ্রহী হচ্ছেন। বর্তমানে বাজারে প্রতি মন বিটরুট প্রায় ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

শুধু লাভ নয়, বিটরুটের পুষ্টিগুণও এর জনপ্রিয়তার বড় কারণ। পুষ্টিবিদদের মতে, বিটরুটে উচ্চমাত্রার আয়রন, ফলিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এটি রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। নিয়মিত বিটরুট খেলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমে এবং শরীরে শক্তি বাড়ে।

কৃষক অনিল চন্দ বলেন, ‘শুরুতে অনেকে বিটরুট নিয়ে সন্দিহান ছিল। কিন্তু এখন পুষ্টিগুণ জানার পর মানুষ বেশি কিনছে। খরচ কম, লাভ ভালো।’

আরেকজন কৃষক প্রদীপ কুমার বলেন, ‘বাজারে চাহিদা বাড়ছে। পাইকাররা সরাসরি জমি থেকে কিনে নিচ্ছেন। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ বেশি খুঁজছেন এই সবজি।’

স্থানীয় কৃষক আহসান হাবীব জানান, আগে এলাকায় বিটরুট তেমন দেখা যেত না। এবার ফলন ভালো হওয়ায় অনেকেই আগামী মৌসুমে চাষ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার মল্লিকা রানী সেহনবীশ বলেন, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও উন্নত বীজ সরবরাহ করা গেলে আগামীতে বিটরুট চাষ আরও বিস্তৃত হবে। এতে পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

স্বাস্থ্য সচেতনতা ও আর্থিক সম্ভাবনার সমন্বয়ে বিটরুট এখন জয়পুরহাটের কৃষিতে নতুন দিগন্তের বার্তা দিচ্ছে। লাল রঙের এই সবজি ভবিষ্যতে লাভজনক ও পুষ্টিকর ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে।