বিএনপি নেতার অনুমতিতে কাটা হলো ৩৮টি সরকারি গাছ

ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারি খাস জমিতে লাগানো ৩৮টি ইউক্যালিপটাস গাছ এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতার নির্দেশে কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গাছগুলো জব্দ করা হয়েছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
রোববার (১৪ জুন) সদর উপজেলার ১৯ নম্বর বেগুনবাড়ী ইউনিয়নের মাদাই পুকুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেগুনবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুকের নির্দেশে আজগর আলীর ছেলে ফরহাদ হোসেন গাছগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় এলাকাবাসী বিষয়টি জানতে পেরে ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান বাবুল হোসেনকে অবহিত করেন। পরে তিনি বেগুনবাড়ী বাজারে গাড়িতে থাকা গাছ এবং ঘটনাস্থল থেকে বাকি গাছগুলো জব্দ করেন। পরবর্তীতে প্যানেল চেয়ারম্যান বিষয়টি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুল হককে জানালে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে প্রতিনিধি পাঠান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমি পরিমাপ করে সরকারি খাস জমি চিহ্নিত করার পর সেখানে লাল পতাকাযুক্ত খুঁটি স্থাপন করা হয়।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক বলেন, ফরহাদ হোসেন আমাকে কিছু কাগজপত্র দেখিয়েছিলেন এবং জানিয়েছিলেন যে তিনি জমিটি লিজ নিয়েছেন। সেই প্রেক্ষিতে স্থানীয়ভাবে আলোচনা করে তাকে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে তিনি যদি দোষী প্রমাণিত হন, তাহলে প্রশাসন অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
অভিযুক্ত ফরহাদ হোসেন বলেন, গাছগুলো আমি নিজেই লাগিয়েছিলাম। আশপাশের জমির মালিকরা গাছের কারণে ফসল উৎপাদনে সমস্যার কথা জানান। তাদের অনুরোধ এবং স্থানীয় বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুকের সঙ্গে আলোচনা করেই আমি গাছগুলো কেটে ফেলি।
তবে তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। আমি টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় আমার গাছগুলো আটক করা হয়েছে এবং প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়েছে।
অর্থ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে গাড়িসহ গাছগুলো জব্দ করি এবং প্রশাসনকে জানাই। যেহেতু আমি এই ইউনিয়নের দায়িত্বে রয়েছি, সেহেতু এর ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব আমার। আমার বিরুদ্ধে টাকা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি কোনো ব্যক্তির কাছে কোনো ধরনের অর্থ দাবি করিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, সরকারি গাছগুলো প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি সুবিধা নিয়েছেন। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা নিজেদের দায় এড়াতে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন এবং তাকে দোষারোপ করার চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুল হক বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়ে গাছগুলো জব্দ করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।



