ভূমধ্যসাগরে নিহত সুনামগঞ্জের যুবকদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা

লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার পথে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া অভিবাসন প্রত্যাশী সুনামগঞ্জের ১২ যুবকের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (৫ এপ্রিল) সুনামগঞ্জের দিরাই, জগন্নাথর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার নিহত ১২ যুবকের শোকাহত পরিবারের কাছে প্রধানমন্ত্রী তারকে রহমানের আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেন সুনামগঞ্জের সংসদ সংসদ্য ও জেলা বিএনপির নেতারা।
প্রথমে দুপুরে জগন্নাথপুর উপজেলা এবং বিকেলে দিরাই ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রী ও অর্থ তুলে দেন সংসদ সদস্যরা।
এ সময় সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল হকসহ বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংসদ সদস্যরা বলেন, ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের যুবকদের মৃত্যুর ঘটনার খবর শুনেই প্রধানমন্ত্রী তাদের সমবেদনা জানাতে এবং নিহত যুবকদের পরিবারের পাশে থাকতে নির্দেশনা দিয়েছেন।
তারা আরও বলেন, দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ে কেউ যেন অবৈধপথে বিদেশে না যায় এবং এমন ঝুঁকি না নেন। বর্তমান সরকার নির্বাচনের আগেই ঘোষণা দিয়েছে, পাঁচ বছরের মধ্যে এক কোটি মানুষকে বিদেশে পাঠানো হবে। সেই কার্যক্রম ইতোমধ্যে দ্রুতগতিতে শুরু হয়েছে। ধৈর্য ধরুন, সরকার জি-টু-জি পদ্ধতিতে বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বৈধভাবে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।
লিবিয়া থেকে অবৈধপথে গ্রিস যাওয়ার পথে সাগরে ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের তিন উপজেলার ১২ জন রয়েছেন। ভূমধ্যসাগরে পথ হারিয়ে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের কারণে বোটেই তারা প্রাণ হারান। পরে তাদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
ওই বোট থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘ সমুদ্র যাত্রায় খাবার ও পানির সংকটে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন যাত্রীরা। পরে অনেকেই মারা যান। পাচারকারীদের নির্দেশে সবার মরদেহ ভূমধ্যসাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
সুনামগঞ্জের মারা যাওয়া যুবকরা হলেন, দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে নুরুজ্জামান সর্দার ময়না, মৃত ইসলাম উদ্দীনের ছেলে মো. সাহান এহিয়া, আব্দুল গণির ছেলে মো. সাজিদুর রহমান, রাজানগর ইউনিয়নের রনারচর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান, জগদল ইউনিয়নের বাসুরী গ্রামের সালিকুর রহমানের ছেলে সুহানুর রহমান এহিয়া, করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. তায়েফ মিয়া।
এ ছাড়া রয়েছেন জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আমিনুর রহমান, টিয়ারগাঁও গ্রামের আশিক মিয়ার ছেলে শায়ক মিয়া, ইছগাঁও গ্রামের বশির মিয়ার ছেলে আলী আহমদ, ছিলাউড়া গ্রামের সামছুল হকের ছেলে ইজাজুল হক ও দুলন মিয়ার ছেলে নাঈম আহমদ এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নের কবিরনগর গ্রামের ফয়েজুর রহমানের ছেলে মো. ফাহিম অভ্র।
১২ যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় ৯ পাচারকারীর বিরুদ্ধে মানব পাচার ও অনাহারের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে দিরাই ও জগন্নাথপুর থানায় পৃথক মামলা করা হয়েছে। ৩০ মার্চ রাতে দিরাই থানায় চার মানব পাচারকারীর নাম উল্লেখ করে মামলা করেন উপজেলার জগদল ইউনিয়নের বাসুরি গ্রামের মারা যাওয়া সোহানুর রহমান এহিয়ার বাবা ছালিকুর রহমান। জগন্নাথপুর থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন উপজেলার পাইলগাঁও গ্রামের মারা যাওয়া আমিনুর রহমানের বাবা হাবিবুর রহমান।