Advertisement
জ্বালানি তেল সংকটের গুজবে ঠাকুরগাঁওয়ে ফিলিং স্টেশন গুলোতে দীর্ঘ লাইন

জ্বালানি তেল সংকটের গুজবে ঠাকুরগাঁওয়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ঠাকুরগাঁও
জ্বালানি তেল সংকটের গুজবে ঠাকুরগাঁওয়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন
ছবি: এশিয়া পোস্ট

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ও মিনি ফিলিং স্টেশনে যানবাহন চালকদের তীব্র ভিড় দেখা গেছে।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল থেকে হঠাৎ করেই মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় করতে শুরু করেন। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত চাপের কারণে কয়েকটি স্টেশনে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই পেট্রোল ও অকটেনের সাময়িক মজুত শেষ হয়ে যায়।

চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক মাস আগে জ্বালানি তেলের সরবরাহজনিত সাময়িক জটিলতার সময় অনেকেই ভোগান্তির শিকার হয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই এবার গুজব ছড়ানোর পর অনেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ শুরু করেন। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে গ্রাহকের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পাম্পের দীর্ঘ লাইনের ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এসব ছবি দেখে সংকটের আশঙ্কায় অনেকেই নিজ নিজ যানবাহনের জন্য তেল কিনতে ছোটেন, যা রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বাড়িয়ে তোলে।

তবে ফিলিং স্টেশন মালিকেরা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেল সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি বা সংকট নেই। স্বাভাবিক নিয়মেই তেল সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। কেবল গুজবের কারণে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ তেল নিতে আসায় এই সাময়িক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বুধবার ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা জারি করে। এতে জানানো হয়, জেলায় জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই; পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত রয়েছে। তাই গুজবে কান না দিয়ে অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত তেল কেনা বা মজুত করা থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ঠাকুরগাঁওয়ের ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলসহ সব ধরনের জ্বালানি তেল স্বাভাবিকভাবেই বিক্রি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, গুজবের কারণে সৃষ্ট সাময়িক চাপ কেটে গিয়ে পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। একই সঙ্গে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনগণকে দায়িত্বশীল আচরণ করার এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস বা প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে।