রাঙামাটিতে লোডশেডিংয়ে বেড়েছে চার্জার ফ্যানের দাম

রাঙামাটিতে তীব্র তাপদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিং। এতে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতির কারণে এখন প্রায় নিয়মিতভাবেই দুই ঘণ্টা পরপর এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না।
জেলা শহরসহ ১০ উপজেলার বাসিন্দারা পড়েছেন ভোগান্তিতে। শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ-সারা দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন শিশু ও বৃদ্ধরা।
লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে ব্যবসায়ও। শহরের শপিংমল ও দোকানগুলোতে কমেছে বিক্রি। অন্যদিকে বেড়েছে চার্জার ফ্যান ও আইপিএসের চাহিদা। ব্যবসায়ীরা জানান, চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি ফ্যানের দাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, তাপমাত্রা বাড়ায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে এলাকা ও সময়ভেদে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে দিনে ৮ থেকে ১০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। গরম যত বাড়ছে, লোডশেডিংও তত বাড়ছে।
এদিকে আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে উদ্বেগে রয়েছেন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তাদের দাবি, অন্তত পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
রাঙামাটি বনরুপা বি এম শপিং কমপ্লেক্স এর আদর ফ্যাশন ও ইলেকট্রনিকের ম্যানেজার মো. সবুর আলী জানান, গত কয়েক দিন ধরে তীব্র লোডশেডিং শুরু হওয়ার পর থেকে চার্জার ফ্যানের চাহিদা বেড়েছে। মূলত যাদের বাসায় শিশু ও বৃদ্ধ আছে তারা নিচ্ছেন। চাহিদা বেড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও বেড়েছে ৫০০-৬০০ টাকা।
রাঙামাটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র অবজারবার কেচিনু মারমা বলেন, ১৬ ও ১৭ এপ্রিল তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলমান তাপদাহের ইঙ্গিত দেয়। আজও একই পরিস্থিতি থাকতে পারে।
রাঙামাটি বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাগত সরকার বলেন, দিনের বেলায় ১৭ মেগাওয়াট চাহিদা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে ৮-১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এই ক্ষেত্রে যে ফিডারে লোড বেশি থাকে সেখানে লোডশেডিং দিয়ে লোড ব্যবস্থাপনা সামাল দেওয়া হচ্ছে। দিনের বেলায় শহরের বনরুপা লোড থাকে আড়াই মেগাওয়াট ও রাতে বেড়ে ৩ মেগাওয়াট হয়, রিজার্ভ বাজার এলাকায় দিনের বেলায় দেড় মেগাওয়াট থাকলেও রাতে বেড়ে দুই মেগাওয়াট হয়ে যায়। এভাবে করে প্রতিটি ফিডার লাইনে দুই ঘণ্টার পর পর এক ঘণ্টা লোডশেডিং দিয়ে ম্যানেজ করা হচ্ছে।