২০ দোকান দখল করে তালা ঝুলিয়ে দিলেন বিএনপি নেতারা

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের জিরো পয়েন্ট এলাকায় ২০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের দাবি, দোকান দখলের সময় তাদের মালামাল বাইরে বের করে দেওয়া হয় এবং বাধা দিলে কয়েকজনকে মারধর করা হয়।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। দোকানগুলোতে শুঁটকি, আচারসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করা হতো।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসুল্লি ও তার ছেলে রিয়াজ মুসুল্লির নেতৃত্বে প্রায় ১৫০ জন লোক দোকানগুলোতে গিয়ে দখল কার্যক্রম চালান। এ সময় ব্যবসায়ীরা বাধা দিলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ তাদের।
ব্যবসায়ীরা জানান, স্থানীয় বেল্লাল মোল্লার কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে এসব দোকানে ব্যবসা করে আসছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও দোকানগুলো দখলের চেষ্টা হয়েছিল বলে তাঁদের দাবি। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা বিএনপির হস্তক্ষেপে জমির কাগজপত্র যাচাই করে বেল্লাল মোল্লাকে মালিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল বলে জানান তাঁরা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রোববার সকালে দোকান দখলের সময় তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। পরে মহিপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে পুলিশকে খবর দেওয়ার অভিযোগ তুলে তাদের কয়েকজনকে মারধর করা হয় বলে দাবি করেন ব্যবসায়ীরা। এ ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেদোয়ানুল ইসলাম রাসেলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তারা।
শুঁটকি ব্যবসায়ী রুবেল মৃধা জানান, ২০১৮ সাল থেকে তিনি বেল্লাল মোল্লার কাছ থেকে স্টল ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছেন। সকালে কয়েকজন লোক এসে তাঁর দোকানের মালামাল বাইরে বের করে দিয়ে দোকান ছেড়ে যেতে বলেন। এতে প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আচার ব্যবসায়ী মনির হোসেন জানান, সকালে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন লোক তারসহ অন্য ব্যবসায়ীদের দোকান দখলে নেন। তিনি প্রতিবাদ করলে এবং পুলিশকে খবর দেওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে বাধ্য হয়ে মালামাল নিয়ে সরে যান তিনি।
এদিকে জমির মালিকানা দাবি করা বেল্লাল মোল্লা বলেন, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে পটুয়াখালীর একটি আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তার দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একই ব্যক্তিরা দোকানগুলো দখল করে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির হস্তক্ষেপে দোকানগুলো দখলমুক্ত করা হয়।
তিনি আরও বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে স্থানীয় সেনা ক্যাম্প, উপজেলা ভূমি অফিস ও মহিপুর থানায় উভয় পক্ষের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উভয় পক্ষকে স্থিতিশীল থাকার পরামর্শ দিয়েছিল। এরপরও রোববার তার জমিতে থাকা ২০টি দোকানের মালামাল বাইরে বের করে দোকানগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে ব্যবসায়ীদের করা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসুল্লি। তিনি বলেন, ১৬-১৭ বছর ধরে তারা আমার জমি দখল করে রেখেছেন। জমি উদ্ধারের জন্য অনেকের কাছে গিয়েছি। ভাড়াটিয়াদের আমার সঙ্গে নতুন চুক্তিনামা করতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা সেটা করেননি। আজ তাদের মালামাল নিয়ে দোকান ছেড়ে দিতে বলেছি। তারা স্বেচ্ছায় চলে গেছেন।
কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার বলেন, জমিটি লুজ খতিয়ানের হওয়ায় বিরোধের সমাধান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কাগজপত্রের ভিত্তিতে উভয় পক্ষকে স্থিতিশীল অবস্থায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও সেখানে দখল ও দোকানগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনা দুঃখজনক।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিম হাওলাদার বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। তবে অভিযোগকারীকে না পাওয়ায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।


