ওমর সানীর রেস্টুরেন্টে ক্রেতাকে কুপিয়ে জখম, গ্রেপ্তার ২

মানিকগঞ্জের অরঙ্গবাদ এলাকায় চিত্রনায়ক ওমর সানীর মালিকানাধীন ‘চাপওয়ালা শ্বশুরবাড়ি’ নামের রেস্টুরেন্টে এক ক্রেতাকে কুপিয়ে জখমসহ কয়েকজনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার অরঙ্গবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আতিকুর রহমান খানের চাচা খলিলুল রহমান খান বাদল বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও সাতজনকে আসামি করে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর এজাহারভুক্ত আসামি মো. ইমরান ও মো. লিখনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছ, আতিকুর রহমান চার-পাঁচ বন্ধুকে নিয়ে শুক্রবার ওই রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে যান। সেখানে কয়েকজন নারী কাস্টমারের সঙ্গে আসামিরা দুর্ব্যবহার করেন। এ সময় আতিকুর ও তার বন্ধুরা প্রতিবাদ করেন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আসামিরা রড, হাতুড়ি, চাপাতি, ধারালো ছুরি, কুড়াল, বেলচা ও বাঁশসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ভুক্তভোগীরা দৌড়ে মূল সড়কের দিকে যান। এ সময় আসামি ইমরান ছুরি দিয়ে আতিকুর রহমানের পিঠে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর জখম হন। পরে লিখন লাঠি দিয়ে আঘাত করেন।
অভিযোগ রয়েছে, হামলার সময় আতিকুর রহমানের পকেটে থাকা টাকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয়রা আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আতিকুর রহমানকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলার বাদী খলিলুল রহমান খান বাদল বলেন, রেস্টুরেন্টে একদল সন্ত্রাসীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তার ভাতিজা প্রতিবাদ করায় পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
‘চাপওয়ালা শ্বশুরবাড়ি’ রেস্টুরেন্টের মালিক চিত্রনায়ক ওমর সানী বলেন, ‘আমার রেস্টুরেন্টে নানরুটি বানানোর একজন কারিগর হঠাৎ চলে যান। এতে একটা সংকট তৈরি হয়। ঠিক এই সময়ে লিখন নামের একজন কর্মচারীকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়, ওর বাসা হচ্ছে রেস্টুরেন্টের কাছেই। একজন কাস্টমারের কাছে নানরুটি পছন্দ না হওয়ায় তিনি তা জানাতেই লিখন প্রতিবাদ করে, চিল্লাচিল্লি করে। একপর্যায়ে নারী কাস্টমারের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে।’
তিনি বলেন, আমার রেস্টুরেন্টের অন্য কর্মচারীদের মধ্যে মুন্না, জীবনসহ কয়েকজন তা মিটমাটের চেষ্টা করেন। যদিও আমি নিজে সেখানে ছিলাম না, তবে সিসিটিভির ক্যামেরায় যা দেখেছি, তাতে পরিষ্কার—লিখন কাস্টমারের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছিল। হাতাহাতি করেছে। একপর্যায়ে তারা রেস্টুরেন্টের সীমানার অনেক বাইরে চলে যায়। এরপর শুনি, রেস্টুরেন্টে দুর্ব্যবহারের সূত্র ধরে লিখন ও তার সঙ্গে থাকা লোকজনের কেউ সেই কাস্টমারের পিঠে ছুরিকাঘাত করেছে। এটা কিন্তু আমার রেস্টুরেন্টের ভেতরে ঘটেনি। আর যারা ছুরিকাঘাতের মতো এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। লিখনসহ আর যারা জড়িত আছে এ ঘটনায়, তাদের সবারই শাস্তি চাই।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় আহত আতিকুর রহমানের চাচা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। রোববার আসামি ইমরান ও লিখনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।