logo

মুরগির দোকানকে গুদাম দেখিয়ে সারের ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগ

মুরগির দোকানকে গুদাম দেখিয়ে সারের ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগ
গুদাম হিসেবে উল্লেখ করা দোকানটি পোলট্রি মুরগির। ছবি : এশিয়া পোস্ট

নোয়াখালীর হাতিয়ায় মুরগি বিক্রির দোকানকে সার রাখার গুদাম দেখিয়ে সারের ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেসার্স ফারহান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ছারোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। সরেজমিনে ওই প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো সার-বীজের দোকান পাওয়া যায়নি। বরং ডিলারশিপের আবেদনে গুদাম হিসেবে উল্লেখ করা দোকানটিতে বিক্রি হচ্ছে পোলট্রি মুরগি। এ ঘটনায় ডিলারশিপ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এক বাসিন্দা।

এ বিষয়ে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক, জেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. জামাল উদ্দিন।

অভিযোগপত্রে জামাল উদ্দিন উল্লেখ করেন, হাতিয়া উপজেলার ২ নম্বর চানন্দী ইউনিয়নের ভুঁইয়া গ্রামের বাসিন্দা ছারোয়ার হোসেন স্থানীয় প্রকল্প বাজারে মেসার্স ফারহান এন্টারপ্রাইজের নামে সার ডিলারশিপের অনুমোদন নিয়েছেন। তবে বাস্তবে ওই নামে কোনো গুদাম বা সার বিক্রির প্রতিষ্ঠান নেই। সার ব্যবসা পরিচালনার প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতাও তার নেই বলে অভিযোগ করেন জামাল উদ্দিন।

অভিযোগকারীর দাবি, ছারোয়ার হোসেন ইটভাটার মাটি, নদীর বালু ও মাটি কাটার সরদারিসহ বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এমন ব্যক্তিকে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়ায় প্রকৃত সার ব্যবসায়ী ও কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এ কারণে ডিলারশিপ বাতিল করে অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীকে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের প্রকল্প বাজারে গিয়ে মেসার্স ফারহান এন্টারপ্রাইজের নামে কোনো সার-বীজের দোকান পাওয়া যায়নি। ডিলার নিয়োগের আবেদনে গুদাম হিসেবে উল্লেখ করা দোকানটিতে পোলট্রি মুরগি বিক্রি হতে দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দোকানটির মালিক মো. মিরাজ।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ছারোয়ার হোসেন জানান, থানারহাটে তার সার-বীজের দোকান ছিল। ওই বাজারটি ভেঙে যাওয়ায় প্রকল্প বাজারে মিরাজের মুরগির দোকানটি ভাড়া নেওয়ার চুক্তি করেন তিনি। পরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্তে এসে দোকানটি নিয়ে আপত্তি জানালে মসজিদের পাশে একটি দোকান নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

তবে প্রতিবেদকের সরেজমিন পর্যবেক্ষণে মসজিদের পাশেও মেসার্স ফারহান এন্টারপ্রাইজের কোনো দোকানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নোয়াখালীর উপপরিচালক আশীষ কুমার বলেন, অভিযোগটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রবিউল ইসলাম

সম্পাদনা

রবিউল ইসলাম

সাব এডিটর | এশিয়া পোস্ট