বগুড়ায় আলোচনায় ছয়জন, পাঁচজনই সাবেক ছাত্রদল নেত্রী

সংরক্ষিত নারী আসনে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করার কথা জানিয়েছে সরকারি দল বিএনপি। প্রত্যেক জেলা থেকে নারী নেত্রীরা মনোনয়ন পেতে শুরু করেছেন দৌড়ঝাঁপ। বিএনপি অধ্যুষিত জেলা হিসেবে পরিচিত বগুড়া থেকে এ দৌড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন ছয়জন। এই ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনই ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্র সংগঠন থেকে উঠে আসা নেত্রীরা বর্তমানে মহিলা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করছেন। তারা গত ১৭ বছর বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় মাঠে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। অনেকের বিরুদ্ধে হয়েছিল মামলা। দলের হাইকমান্ড এসব বিবেচনায় নিয়ে মনোনয়ন চূড়ান্ত করবে।
আলোচনায় থাকা নেত্রীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আইনজীবী শাহাজাদী লায়লা আরজুমান বানু, সাধারণ সম্পাদক নাজমা আকতার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুরাইয়া জেরিন রনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আইনজীবী রহিমা খাতুন মেরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিহার সুলতানা তিথি এবং শাজাহানপুর উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি কোহিনুর আক্তার।
ছাত্রদল থেকে উঠে আসা
১৯৮৮ সালে ছাত্রদলে যুক্ত হয়ে রাজনীতি শুরু করেন লায়লা আরজুমান। প্রয়াত বাব শাহ মো. মোজাম্মেল হকের মাধ্যমে তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ১৯৯১ সালে জেলা মহিলা দলের প্রাথমিক সদস্য হন। ১৯৯৬ সাল থেকে মহিলা দলের রাজনীতি শুরু করেন। বর্তমানে তিনি জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি।
পেশায় আইনজীবী শাহাজাদী লায়লা আরজুমান বানু এশিয়া পোস্টকে বলেন, দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে আছি। হাইকমান্ড বিবেচনা করবে। আমি আশাবাদী।
ছাত্রদলের দায়িত্বশীল নেত্রী ছিলেন নাজমা আকতার। ১৯৯৪ সালে বগুড়া সদর থানা ছাত্রদলের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৯৮ সালে যোগ দেন মহিলা দলে। ২০০৪ সালে হন সদর উপজেলা মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক। ২০০৬ সালে সদর উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। বর্তমানে জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
দলের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিলেও মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী নাজমা আকতার। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমে আমার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। পরে মহিলা দলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছি। আশা করি দল ত্যাগের মূল্যায়ন করবে।
গাবতলী কলেজে ভর্তি হওয়ার পর ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় সুরাইয়া জেরিন রনি। ২০০৩ সালে ছাত্রসংগঠনে যোগ দেওয়ার কয়েক বছর পার করেন। এক/এগারোর পটপরিবর্তনের পর মহিলা দলে যোগ দেন তিনি। গাবতলী উপজেলা পরিষদ থেকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি
সুরাইয়া জেরিন বর্তমানে জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক এবং গাবতলী শাখার সভাপতি। তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে মাঠে সক্রিয় ছিলাম। দল সবকিছু বিবেচনা করবে আশা করি।
১৯৯১ সালে সরকারি শাহ সুলতান কলেজে পড়ার সময় ছাত্রদলের রাজনীতি শুরু করেন রহিমা খাতুন মেরী। ২০০৪ সালে শাজাহানপুর উপজেলা কৃষক দল ও জাসাসের (জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা) মহিলাবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি পেশায় একজন আইনজীবী।
বর্তমানে বগুড়া জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক পদে থাকা এই নেত্রী বলেন, ছাত্রদল থেকে রাজনীতি শুরু করে দলের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মাঠে সক্রিয় থেকে কাজ করছি।
সরকারি মুজিবুর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজে পড়ার সময় ১৯৯২ সালে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন নিহার সুলতানা তিথি। এই কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস ও ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিহার সুলতানা বলেন, অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়তার ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে দল মূল্যায়ন করবে বলে আশা করছি।
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি কোহিনুর আকতার দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, যোগ্যতা বিবেচনায় দল মনোনয়ন দিলে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সদ্য বিজয়ী সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা বলেন, সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করছেন। দলের হাইকমান্ড যোগ্যতা ও ত্যাগ বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।