বাগেরহাটে ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চাঁপাতলা গ্রামে বসতবাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে নগদ টাকা, একটি বাটন মোবাইল ফোন ও বিক্রি করা স্বর্ণালংকারের মধ্যে ২ ভরি ৫ আনা গলিত স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম বিষয়টি জানান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. হাসিব শেখ (২৩), মো. ইনামুল বিশ্বাস ওরফে এনা (৩৭), আব্দুর নূর তুষার ওরফে হৃদয় (৩১) ও আব্দুর রশিদ (৩২)।
পুলিশ জানায়, গত ১৪ অক্টোবর রাত আনুমানিক সোয়া ৩টায় বাগেরহাট সদর উপজেলার ৬ নম্বর যাত্রাপুর ইউনিয়নের চাঁপাতলা পূর্বপাড়া গ্রামের শেখ আতিয়ার রহমান ও তার স্ত্রী রেহেনা বেগম ঘুমিয়ে ছিলেন। এসময় মুখোশ পরা তিনজন দুর্বৃত্ত জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে তাদের দুই হাত বেঁধে ফেলে। পরে ঘরের স্টিলের আলমারি ভেঙে নগদ ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, ৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও একটি বাটন মোবাইল ফোনসহ আনুমানিক ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় শেখ আতিয়ার রহমানের ছেলে শেখ ওমর ফারুক বাদী হয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলাটি ১৪ অক্টোবর দায়ের করা হয়। এরপর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে অভিযান শুরু করে।
পুলিশের তথ্যমতে, ৪ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে নড়াইলের লোহাগড়া এলাকা থেকে মো. হাসিব শেখ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত ১ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে একই দিন রাত সোয়া ১০টায় ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে মো. ইনামুল বিশ্বাস ওরফে এনা নামে আরেক জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার হেফাজত থেকে লুট হওয়া একটি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
হাসিবের দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় ৫ নভেম্বর রাত ১২টা ১৫ মিনিটে ঢাকার দক্ষিণখান এলাকা থেকে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্ত আব্দুর নূর তুষার ওরফে হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ৩০ হাজার ১০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী সময়ে তুষারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকারের ক্রেতা আব্দুর রশিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে গলিত অবস্থায় ২ ভরি ৫ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার চারজনই আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের মধ্যে আব্দুর নূর তুষার ওরফে হৃদয়ের বিরুদ্ধে ডাকাতি, দস্যুতা ও চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে মোট ৯টি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম বলেন, বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চাঁপাতলা গ্রামে ডাকাতির ঘটনার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করে। এ ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে ৯টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
