লোহাগড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

‘খেলার ছলে গড়ব প্রীতি, বন্ধুত্বেরই নতুন নীতি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নড়াইলের লোহাগড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। ম্যাচে খুলনা জেলার রূপক স্মৃতি ফুটবল একাডেমিকে ১-০ গোলে হারিয়েছে গোপালগঞ্জ জেলার শিপন ফুটবল ট্রেনিং সেন্টার।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় লোহাগড়া উপজেলার আমাদা স্কুল মাঠে ‘ফ্রেন্ডস অ্যান্ড কোম্পানি’র আয়োজনে এ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় স্বাগত বক্তব্য দেন আমাদা আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ মো. আল ফয়সাল খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আমাদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি সালাউদ্দিন খান।
খেলা শুরুর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে ম্যাচের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। জাতীয় সংগীত চলাকালে মাঠে উপস্থিত খেলোয়াড়, আয়োজক ও দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ। এরপর দুই দলের খেলোয়াড়রা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন।
খেলাকে ঘিরে আমাদা স্কুল মাঠে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। খেলা শুরুর অনেক আগে থেকেই মাঠে দর্শকদের সমাগম শুরু হয়। বিকেল ৪টার দিকে মাঠের চারপাশ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। স্থানীয় দর্শকদের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও ফুটবলপ্রেমীরা ম্যাচ দেখতে আসেন।
রেফারির বাঁশিতে খেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। কখনো খুলনার রূপক স্মৃতি ফুটবল একাডেমি আক্রমণে ওঠে, আবার মুহূর্তেই পাল্টা আক্রমণে এগিয়ে যায় গোপালগঞ্জের শিপন ফুটবল ট্রেনিং সেন্টার। ফলে শুরু থেকেই ম্যাচে ছিল টানটান উত্তেজনা।
প্রথমার্ধে দুই দলই একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করে। তবে গোলরক্ষকদের দৃঢ়তায় কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা। দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য দুই দলই আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয়। একপর্যায়ে সুযোগ কাজে লাগিয়ে খুলনার রূপক স্মৃতি ফুটবল একাডেমির জালে বল পাঠায় গোপালগঞ্জের শিপন ফুটবল ট্রেনিং সেন্টার। এতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় গোপালগঞ্জের দল।
গোল হজমের পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে খুলনার দল। একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি তারা। অন্যদিকে, গোলের ব্যবধান ধরে রাখতে রক্ষণভাগ শক্তিশালী করে গোপালগঞ্জের খেলোয়াড়রা। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে শিপন ফুটবল ট্রেনিং সেন্টার। খেলা শেষে বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন আয়োজক কমিটির সদস্য ও অতিথিরা।
আয়োজক কমিটির প্রধান জুবায়ের সিদ্দিকী রিফাত বলেন, ফ্রেন্ডস অ্যান্ড কোম্পানির আয়োজনে ২০১০ সাল থেকে আমরা নিয়মিতভাবে এ ধরনের প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করে আসছি। খেলাধুলা মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতি গড়ে তোলে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, বিভিন্ন জেলার খেলোয়াড়দের একসঙ্গে মাঠে এনে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতেও তরুণদের মাঠমুখী করতে এবং এলাকার ক্রীড়াঙ্গনকে আরও এগিয়ে নিতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

