গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে লেবাননে নিহত সাতক্ষীরার দুই প্রবাসীর মরদেহ

ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় লেবাননে নিহত সাতক্ষীরার দুই প্রবাসী শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলামের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) সকালে দুজনের মরদেহ সাতক্ষীরায় নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।
এ সময় পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়।
এর আগে শনিবার রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় তাদের মরদেহ।
বিমানবন্দরে সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
গত ১১ মে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ে অঞ্চলের জিবদিন এলাকায় নিজ আবাসস্থলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন।
নিহতরা হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের মো. নাহিদুল ইসলাম।
মারা যাওয়ার প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় পর সরকারি ব্যবস্থাপনায় তাদের মরদেহ দেশে আনা হলো।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মিঠু জানান, শনিবার রাতে বিমানবন্দরে সরকারের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ গ্রহণ করেন। পরে নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। রোববার জোহরের নামাজের পর তাদের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
শফিকুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শোকে স্তব্ধ হয়ে আছেন পরিবারের সদস্যরা। ১৮ বছরের সংসার গড়ে তুলেছিলেন তিনি। বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী রুমা খাতুন এবং দুই কন্যাসন্তানকে ঘিরেই ছিল তার স্বপ্ন।
প্যানেল চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মিঠু বলেন, শফিকুলের আয়ে পুরো পরিবারটি চলত। তার মৃত্যুতে পরিবারটি কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছে। পরিবারের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই, অন্তত তার বড় মেয়ের জন্য একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হোক।
আশাশুনির কাদাকাটি গ্রামেও একই চিত্র। মাত্র ২০ বছর বয়সে পরিবারের স্বপ্ন বুকে নিয়ে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন নাহিদুল ইসলাম। স্বজনদের আশা ছিল বিদেশে কাজ করে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করবেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণ রেখে ফিরেন কফিনবন্দি হয়ে।
মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর মা, বাবা ও স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। প্রতিবেশীরাও শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও কান্না থামানো সম্ভব হয়নি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার খুলনার সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. খালেদুর রহমান জানান, মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের দাফন-কাফন বাবদ ৩৫ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দুই প্রবাসী বৈধভাবে বিদেশে গিয়েছিলেন। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে তিন লাখ টাকা এবং জীবন বীমার আওতায় এককালীন ১০ লাখ টাকা পাবেন। অর্থাৎ প্রত্যেক পরিবারের জন্য মোট ১৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা নির্ধারিত রয়েছে।
খালেদুর রহমান আরও জানান, একই ঘটনায় আহত প্রবাসী শুভজিৎও নিয়ম অনুযায়ী সরকারি সহায়তা পাবেন।



