পার্বত্য চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে রাঙামাটিতে মানববন্ধন, সরকারকে হুঁশিয়ারি

বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি লঙ্ঘন এবং একতরফা ও জনবিচ্ছিন্ন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে রাঙামাটিতে প্রতিবাদী সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বস্তরের নাগরিক সমাজের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তব্য দেন আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ইন্টু মনি চাকমা এবং লেখক ও সংস্কৃতিকর্মী শিশির চাকমাসহ প্রমুখ।
সমাবেশ থেকে অভিযোগ করা হয়, বর্তমান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি লঙ্ঘন করে বিভিন্ন একতরফা ও জনবিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে। পার্বত্য এলাকার বাইরে থেকে প্রতিনিধি এনে বিশেষ দায়িত্ব প্রদানসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।
বক্তারা আরও বলেন, সরকার গঠিত তিনটি জাতীয় কমিটি চুক্তি স্বাক্ষরকারী পক্ষের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই করা হয়েছে। তাই অবিলম্বে এসব জাতীয় কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি সঠিকভাবে মূল্যায়ন না করে কোনো অঘটন ঘটলে এর সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সমাবেশে লেখক ও সংস্কৃতিকর্মী শিশির চাকমা সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সরকার সম্প্রতি যে তিনটি জাতীয় কমিটি (নির্বাহী কমিটি ও পরামর্শক কমিটি) গঠন করেছে, তা পার্বত্য চট্টগ্রামবান্ধব নয়। এসব কমিটির কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিত করতে হবে। বর্তমান যে সংকট তৈরি হচ্ছে, তা যদি সরকার এখনই গভীরভাবে উপলব্ধি করে সমাধান না করে এবং পরবর্তীতে কোনো অঘটন ঘটে, তবে এর সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব সরকারকে বহন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার যাদের সঙ্গে চুক্তি করেছে এবং যারা এ বিষয়ে কথা বলছে, তাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করতে হবে। কীভাবে চুক্তি বাস্তবায়িত হবে, তার একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করার জন্যও সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানান তিনি।
সবশেষে একতরফা সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ ধারাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জোরালো দাবি জানানো হয়। সমাবেশ ও মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়।