logo

ভাঙন ঠেকাতে নেই প্রস্তুতি, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

ভাঙন ঠেকাতে নেই প্রস্তুতি, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

পানি বাড়লেই ভাঙন শুরু হবে, এই চিন্তায় রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। এখন যদি ভাঙন বন্ধের ব্যবস্থা না করেন, কোথায় যে পানিতে ভাসি যাব, একমাত্র আল্লাহ জানেন। সরকারের কাছে অনুরোধ করি, এখানে একটা ব্যবস্থা করুক।

এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের দুধকুমার নদের অববাহিকার বানিয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল গফুর (৬০)।

তিনি বলেন, নদীর কিনারায় আমার বাড়ি। এই ভিটেমাটি ছাড়া আর কোনো জমিজমা নেই। এবার যদি নদী বাড়িটা ভেঙে নিয়ে যায়, যাওয়ার মতো আর কোনো জায়গা থাকবে না।

শুধু আব্দুল গফুরই নন, একই আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন ওই এলাকার অসংখ্য পরিবার। স্থানীয় বাসিন্দা লেবু জানান, গত বছর দুধকুমার নদের ভাঙনে একটি পুরো গ্রাম বিলীন হয়ে গেছে। অনেকেই কোথায় আশ্রয় নিয়েছেন, তারও খোঁজ নেই। কেউ কেউ অন্যের জমিতে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।

লেবু বলেন, গত তিন-চার বছরে কয়েকশ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। নদের ডান তীরের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে এবছরও বন্যায় অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়বে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাপুর হাটও, যেখান থেকে প্রতি বছর সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পায়।

স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, বাড়িভিটা ছাড়া আর কিছুই নেই। এবার যদি এটাও ভেঙে যায়, কোথায় যাব? আমরা গরিব মানুষ, জমি কিনে থাকার সামর্থ্য নেই। আমরা শুধু চাই, নদীটা বেঁধে দেওয়া হোক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ১৬টি নদ-নদী রয়েছে। এর মধ্যে ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদে বর্ষা মৌসুম এলেই তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। প্রতিবছর শত শত পরিবার ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে।

যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর বলেন, বানিয়া পাড়া এলাকাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নদীতে পানি বাড়লেই ভাঙন শুরু হতে পারে। বন্যার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এলাকা রক্ষা করা সম্ভব।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, জেলার রৌমারী এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের কিছু স্থানে ইতোমধ্যে ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রতিরোধের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ শুরু করা হবে। অন্য কোথাও ভাঙন দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।