মাদকবিরোধী কমিটির সদস্যের বাড়িতে হামলা-লুটপাট, তিনটি ককটেল উদ্ধার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকবিরোধী কমিটির এক সদস্যের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নগদ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়ানগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী মো. পাতানুর রহমান ফটিক (৪৫) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা স্বর্ণকার কারিগর সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় মাদকবিরোধী কমিটির সদস্য।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রান্তিকপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. মজির (৪৮) ইন্ধনে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মো. হেলাল খান (৩২), মো. মারুফ আলী (২৩) ও মো. রিফাত আলীর (২২) নেতৃত্বে ১৮ থেকে ২০ জনের একটি দল লোহার হাঁসুয়া, জিআই পাইপ, লাঠিসোঁটা ও ককটেল নিয়ে ফটিকের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।
ভুক্তভোগী ফটিকের অভিযোগ, হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় আলমারিতে রাখা নগদ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় তারা। চলে যাওয়ার সময় আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তিনটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। তবে সেগুলো বিস্ফোরিত হয়নি।
খবর পেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা-পুলিশ ও এসআরবি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অবিস্ফোরিত ককটেল তিনটি উদ্ধার করে আলামত হিসেবে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকাকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে প্রায় এক মাস আগে জিয়ানগর ও রেলবাগান এলাকার বাসিন্দারা ৮০ সদস্যের একটি মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করেন। কমিটির সভাপতি করা হয় মো. আব্দুল হামিদকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় মো. শাকিলকে। ফটিক ওই কমিটির সক্রিয় সদস্য। মাদক কারবারের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের উদ্যোগের জের ধরে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
এ ঘটনায় দুপক্ষের ছয় থেকে সাতজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীন আকন্দ জানান, ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
