ঈশ্বরদীতে জেলি মেশানো চিংড়ি জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

দেখতে টাটকা ও আকারে বেশ বড় হলেও ঈশ্বরদীতে বিক্রি হচ্ছিল জেলি মেশানো চিংড়ি মাছ। ওজন বাড়িয়ে ক্রেতাদের কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে এসব মাছে জেলি মেশানো হয়েছিল। খবর পেয়ে বাজারে অভিযান চালিয়ে ১০ কেজি জেলিযুক্ত চিংড়ি মাছ জব্দ করেছে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রশাসন। পরে জব্দ করা মাছ জনসম্মুখে মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করা হয়। এ ঘটনায় এক মাছ ব্যবসায়ীকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ঈশ্বরদী পৌর শহরের মাছ বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান সরকার। অভিযানে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাম্মি শিরিনসহ মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, চিংড়ি মাছে জেলি বা ক্ষতিকর পদার্থ ঢুকিয়ে ওজন বাড়িয়ে বিক্রির অভিযোগের ভিত্তিতে ঈশ্বরদী মাছ বাজারে অভিযান চালানো হয়। বাজারের বিভিন্ন দোকান পরিদর্শনের একপর্যায়ে একটি দোকানে সন্দেহজনক চিংড়ি দেখতে পান কর্মকর্তারা। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মাছগুলোতে জেলি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেলে দোকান থেকে বিক্রির জন্য রাখা ১০ কেজি চিংড়ি মাছ জব্দ করা হয়।
অসাধু উপায়ে জেলিযুক্ত চিংড়ি বিক্রির দায়ে সংশ্লিষ্ট মাছ ব্যবসায়ীকে ‘মৎস্য ও মৎস্য পণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০২০’ অনুযায়ী ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জব্দ করা মাছগুলো স্থানীয়দের উপস্থিতিতে মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চিংড়ি মাছে জেলি বা পানি জাতীয় পদার্থ ব্যবহার করে ওজন বাড়িয়ে বিক্রির ঘটনা নতুন নয়। এতে একদিকে ক্রেতারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে অনিরাপদ এসব মাছ ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে। বাজারে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানের সময় ইলিশ মাছ পাওয়া না গেলেও এসব জেলিযুক্ত চিংড়ি মাছ আটক করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত মাছ নিশ্চিত করতে বাজারে তদারকি অব্যাহত থাকবে। কেউ মাছের গুণগত মান নষ্ট করলে বা ক্ষতিকর পদার্থ মিশিয়ে বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
