logo

চিরনিদ্রায় শায়িত দুই পরিবারের ১৩ জন

চিরনিদ্রায় শায়িত দুই পরিবারের ১৩ জন

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক পরিবারের ৯ ও আরেক পরিবারের ৪ জনসহ ১৩ জনকে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। 

শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাকসহ তার পরিবারের ৯ সদস্যের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মোংলা কবরস্থানে পাশাপাশি তাদের দাফন করা হয়।

জানাজায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নিহতদের স্বজন এবং কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। এতে উপজেলা পরিষদ মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

জানাজা পড়ান মোংলা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. রুহুল আমিন।

জানাজার আগে নিহতদের জন্য সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন আব্দুর রাজ্জাকের বড় ছেলে আশরাফুল আলম জনি। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, আমি বাবা, ভাই, স্ত্রী, সন্তান, বোন ও ভাগ্নে— সবাইকে হারিয়েছি। আমার বাবা রাজনীতি করতেন, ভাইয়েরা ব্যবসা করতেন। কারও কাছে যদি তাদের কোনো দেনা-পাওনা থাকে, দয়া করে জানাবেন। আমরা তা পরিশোধ করব। সবাই তাদের ক্ষমা করে দেবেন।

জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, এটি একটি হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী নিহত পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। আব্দুর রাজ্জাক একজন সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি নিহত সবার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বলেন, যে বাড়িতে আজ আনন্দের উৎসব থাকার কথা ছিল, সেখানে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আমরা শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।

দুর্ঘটনায় নিহত কনে পক্ষের চারজনকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাস ও বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বর-কনেসহ ১৪ জন নিহত হন। 

নিহতদের মধ্যে বর আহাদুর রহমান ছাব্বির, তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক, ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ঐশীর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল এবং তাদের সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরাম—একই পরিবারের ৯ সদস্য।

অন্যদিকে কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগমের মরদেহ খুলনার কয়রা উপজেলায় নেওয়া হয়। শুক্রবার জুমার নামাজের আগে সেখানে তাদের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

এছাড়া নিহত মাইক্রোবাসচালক নাঈমের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নের সিংগেরবুনিয়া গ্রামে। শুক্রবার জুমার নামাজের আগে নিজ গ্রামে তার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) গোলাম মো. বাতেন ও পুলিশ সুপার (এসপি) হাসান চৌধুরী ঘটনাস্থল ও নিহতদের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন।

জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল, জেলা পরিষদ এবং সড়ক পরিবহন আইনের ৫৪ ধারার আওতায় নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে নিহত মাইক্রোবাসচালক মো. নাঈম শেখের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।