এক সপ্তাহে মাদারীপুরে ঝরল ১০ প্রাণ

মাদারীপুরের তাতিবাড়ি এলাকায় গত ১৩ জানুয়ারি বরিশালগামী একটি কাভার্ডভ্যানচাপায় অটোভ্যানের তিন যাত্রী নিহত হন। রাস্তার পিচে সেই রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। তার পাঁচ দিনের মাথায় ১৮ জানুয়ারি মস্তফাপুর মিলগেট এলাকায় বাস ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান আরও সাতজন। এক সপ্তাহে কেবল মাদারীপুর অংশেই ঝরল ১০টি প্রাণ। পদ্মা সেতু চালুর আড়াই বছর পার হলেও দক্ষিণবঙ্গের এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটি এখনো রয়ে গেছে সেই মান্ধাতা আমলের সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়।
পদ্মা সেতুর সুফল হিসেবে যাতায়াত সহজ হলেও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক এখন রূপ নিয়েছে মরণফাঁদে। উন্নয়নের বড় বড় বুলি থাকলেও বাস্তবে ‘এক্সপ্রেসওয়ে’র ছোঁয়া লাগেনি এই জনপদে। ফলে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা আর লাশের মিছিল।
পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর এই রুটে যানবাহনের চাপ বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা ও ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক হাজার যানবাহন প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করছে। কিন্তু ভাঙ্গা থেকে ভূরঘাটা পর্যন্ত মাদারীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন ৪৭ কিলোমিটার সড়ক এখনো সংকীর্ণ। সবচেয়ে বড় সংকট— পৃথক সার্ভিস লেন না থাকা।
ইজিবাইক চালক হাবিব ও মোকলেস জানান, বিকল্প রাস্তা নেই বলে তারা বাধ্য হয়ে মূল মহাসড়কে উঠছেন। এতে দ্রুতগতির বাস-ট্রাকের সঙ্গে ছোট যানের সংঘর্ষ এখন নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় যাত্রী মাওলানা আলমগীর হোসেনের কণ্ঠে আতঙ্ক, এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা মানে জীবন হাতে নিয়ে চলা। চালকদের বেপরোয়া গতি আর ছোট গাড়ির অবাধ চলাচল যাতায়াতকে নরক বানিয়ে ছেড়েছে।
ফরিদপুর থেকে বরিশাল পর্যন্ত ৬ লেনের এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের। কিন্তু বাস্তবে এর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। পথচারী বলাই চন্দ্র বৈরাগী আক্ষেপ করে বলেন, রাস্তা পার হতে গেলেই মনে হয় এই শেষ যাত্রা। রাস্তা বড় না করলে এই মৃত্যু থামবে না।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কেবল পদ্মা সেতু সম্ভাবনার দুয়ার খুললেও সংযোগকারী সড়কগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় সেই অর্জন ম্লান হতে বসেছে।
মস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন আল রশিদ বলেন, যানবাহনের তুলনায় রাস্তা অত্যন্ত সরু। আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি, কিন্তু অবকাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান জানান, জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় কাজ এগোচ্ছে না।
তিনি বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া ও দাতা সংস্থার আর্থিক নিশ্চয়তা পাওয়া গেলে মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।