logo
Advertisement

‘দলীয়করণের কারণে প্রকৃত মেধাবীরা কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছাতে পারেন না’

‘দলীয়করণের কারণে প্রকৃত মেধাবীরা কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছাতে পারেন না’
খুলনা প্রেসক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডের বিষয়টি সামনে আসে। অন্যদিকে বিশ্বের অন্যান্য দেশে যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি দেওয়া হয়। ফলে দলীয়করণের কারণে প্রকৃত মেধাবীরা অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছাতে পারেন না।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) খুলনা প্রেসক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে ছাত্রশিবির খুলনা মহানগর শাখা আয়োজিত এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সিবগাতুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের সমৃদ্ধির জন্য তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। তরুণরা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখলেই বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। এজন্য তরুণদের মেধাবী হওয়ার পাশাপাশি সৎ, দক্ষ ও নৈতিক মানুষ হতে হবে।

কৃতী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজেকে সেরা হিসেবে তুলে ধরতে অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের বিকল্প নেই। মেধার লড়াইয়ে সবাইকে এসএসসি পরীক্ষার চেয়েও কঠোর সাধনায় মগ্ন হতে হবে। তবেই সফলতার এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বেকার হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়া। ফলে গবেষণাক্ষেত্রে ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। এর কারণে দেশে বেকারত্বের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

সরকারি চাকরির মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বৃদ্ধির সমালোচনা করে সিবগাতুল্লাহ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা। ‘কোটা না মেধা’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ পাওয়ার কথা বলা হলেও প্রকৃত মেধাবীদের মূল্যায়ন না করে দলীয়করণের লক্ষ্যে মৌখিক পরীক্ষায় ৪০০ শতাংশ নম্বর বৃদ্ধির ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় নিয়োগের বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির হাতে তুলে দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর ফলে আজকের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে তাদের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখতে বাধাগ্রস্ত হবে।

জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ আনাসের চিঠির উদ্ধৃতি দিয়ে সিবগাতুল্লাহ বলেন, জুলাইয়ের শহীদ আবু সাঈদ থেকে শুরু করে সব শহীদ তরুণদের জন্য প্রেরণা। দেশের ক্রান্তিলগ্নে শহীদ আনাস যেমন সব পিছুটান দূরে ঠেলে দেশের প্রয়োজনে জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন, তেমনি আজকের মেধাবীদেরও দেশের অগ্রযাত্রায় যেকোনো প্রয়োজনে ভূমিকা রাখতে হবে।

‘মেধা, সততা, দেশপ্রেমে গড়ি ইনসাফের বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে খুলনা মহানগরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত সহস্রাধিক কৃতী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খুলনা মহানগর আমীর মাহফুজুর রহমান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী, সাবেক মহানগর সভাপতি প্রিন্সিপাল জাহাঙ্গীর আলম, মিয়া মুজাহিদুল ইসলাম, জাহিদুর রহমান নাঈম এবং সরকারি বিএল কলেজ ছাত্রসংসদের সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট শেখ জাকিরুল ইসলাম।