যশোরে ৬৯১ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক, ব্যাহত পাঠদান

যশোর জেলার ৬৯১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও পাঠদানের মূল চালিকাশক্তি—এই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দীর্ঘদিন স্থায়ী নিয়োগ না থাকায় পুরো জেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকরা একই সঙ্গে শ্রেণি কার্যক্রম ও দাপ্তরিক কাজ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে শিক্ষার গুণগত মানের ওপর।
জেলা শিক্ষা অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকের সবচেয়ে বেশি শূন্যপদ রয়েছে মণিরামপুর উপজেলায়। সেখানে ২৬৭টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৬৮টিতেই প্রধান শিক্ষক নেই। এছাড়া যশোর সদরে ২৫০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২৬টি, শার্শায় ১২৫টির মধ্যে ৮২টি, চৌগাছায় ১৩৯টির মধ্যে ৭৬টি, ঝিকরগাছায় ১৩১টির মধ্যে ৭২টি, অভয়নগরে ১১৭টির মধ্যে ৭০টি, বাঘারপাড়ায় ১০২টির মধ্যে ৬১টি এবং কেশবপুরে ১৩৮টির মধ্যে ৩৬টি পদ শূন্য রয়েছে।
মাঠপর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ায় তিনি নিজের নির্ধারিত ক্লাসগুলো ঠিকমতো নিতে পারছেন না। এতে অন্য শিক্ষকদের ওপরও অতিরিক্ত কাজের চাপ তৈরি হচ্ছে।
চৌগাছার শিক্ষক নেতা ফাতেমা খাতুন বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক শূন্যতার পাশাপাশি একাডেমিক তদারকি শিথিল হয়ে পড়েছে। দ্রুত পদায়ন না হলে এ পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করবে।
কেশবপুরের শিক্ষক আফসার আলী বলেন, অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের পাঠদান যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি অন্যান্য শিক্ষকরাও চাপে পড়ছেন। দ্রুত শূন্যপদগুলোতে নিয়োগ ও পদায়ন করা প্রয়োজন।
যশোর সদর উপজেলা শিক্ষা কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি আনিসুর রহমান জানান, দীর্ঘদিনের এ শূন্যতার কারণে বিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে নানা সমস্যা হচ্ছে।
শিক্ষাবিদ ড. মাহবুবুর রহমান মনে করেন, দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালানো কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। এটি জেলার পুরো প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
এ বিষয়ে যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জি এম আলমগীর কবির জানান, শূন্য পদের তালিকা ও সার্বিক পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক পদায়ন করা গেলে কার্যক্রমে গতি ফিরবে।



