logo

‘এসডিজি ভিলেজ’ হচ্ছে মিতিঙ্গাছড়ি, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

‘এসডিজি ভিলেজ’ হচ্ছে মিতিঙ্গাছড়ি, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি: এশিয়া পোস্ট

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি গ্রাম এখন নতুন আশার আলোয় উদ্ভাসিত। পিছিয়ে পড়া এই পাহাড়ি জনপদকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। সোমবার (১০ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই বৈপ্লবিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত মিতিঙ্গাছড়িতে ১৩৩টি বাঙালি ও ৩৭টি মারমা পরিবারের বসবাস। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা গ্রামটি দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানি, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও আধুনিক স্যানিটেশনের সংকটে ভুগছিল। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে দেশের তিনটি গ্রামকে নিয়ে গঠিত ‘এসডিজি ভিলেজ’ পাইলট প্রকল্পের অন্যতম মডেল হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে কাপ্তাইয়ের এই মিতিঙ্গাছড়িকে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে এখানে কৃষি, শিক্ষা, পর্যটন এবং নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

ঐতিহাসিক এই ‘এসডিজি ভিলেজ’ কার্যক্রমের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ঘুচে একটি আধুনিক, স্বাস্থ্যসম্মত ও টেকসই সমৃদ্ধ গ্রাম পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন মিতিঙ্গাছড়ির পাহাড়ি-বাঙালি বাসিন্দারা। সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগে উচ্ছ্বসিত কাপ্তাইয়ের স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ওমর ফারুক বলেন, আমাদের গ্রামটি উপজেলা সদরের কাছে ও চট্টগ্রাম সড়কের পাশে হলেও অনেক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সুপেয় পানির তীব্র সংকট রয়েছে, গ্রামে নেই কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় কিংবা খেলার মাঠ। অথচ এই গ্রামে পাহাড়ি-বাঙালির অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুন্দর মেলবন্ধন রয়েছে। আমাদের গ্রামকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে বেছে নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।

আরেক বাসিন্দা অনু মং মারমা বলেন, ‘এসডিজি ভিলেজ’ ঘোষণায় গ্রামের সব মানুষ আশায় বুক বাঁধছে। গ্রামের প্রতিটি মানুষ এখন আত্মনির্ভরশীল হওয়ার স্বপ্নে বিভোর।

কাপ্তাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো. দিলদার হোসেন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মিতিঙ্গাছড়ির এই ইতিবাচক পরিবর্তন যেন পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য দুর্গম ও পিছিয়ে থাকা গ্রামগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে—এমনটাই প্রত্যাশা করি। সরকার যেহেতু কাজ শুরু করেছে, আশা করছি সবকিছুই সম্ভব হবে। আমরা স্থানীয় বাসিন্দারাও সরকারকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে প্রস্তুত।

প্রকল্পের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প সমন্বয়ক মো. মঞ্জুরুল হক জানান, মিতিঙ্গাছড়ির স্থানীয় প্রতিটি সমস্যা চিহ্নিত করে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনা হচ্ছে। সরকারের সব ধরনের আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করে এটিকে একটি আদর্শ ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যা পরবর্তীতে সারা দেশের গ্রামগুলোর জন্য টেকসই উন্নয়নের অনুকরণীয় মডেল হিসেবে কাজ করবে।