logo

মাদারীপুরের মানবপাচারের ‘গডফাদার’ জাহিদ কারাগারে

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, মাদারীপুর
মাদারীপুরের মানবপাচারের ‘গডফাদার’ জাহিদ কারাগারে
মানবপাচারের গডফাদার খ্যাত ইউসুফ খান জাহিদ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মাদারীপুরে মানবপাচারের গডফাদার খ্যাত ইউসুফ খান জাহিদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ এলিয়াম হোসেন এ আদেশ দেন।

এর আগে রাজধানীর মতিঝিলের একটি আবাসিক হোটেল থেকে ৯ পিস ইয়াবাসহ ইউসুফ খান জাহিদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে মাদারীপুরে নিয়ে আসা হয়। জাহিদ মাদারীপুর সদর উপজেলার চাছার গ্রামের মৃত সাবু খানের ছেলে।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার রূপরাইয়া গ্রামের মৃত মোস্তফা বেপারীর ছেলে রাকিব বেপারীকে ইতালি পাঠানোর নামে দালালচক্র প্রায় ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে লিবিয়ায় আটকা পড়েন রাকিব। এ ঘটনায় রাকিবের মা সামচুন নাহার গত ১০ মে ইউসুফ খান জাহিদসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে সদর মডেল থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

রাকিবের মা সামচুন নাহার বলেন, আমার ছেলে এখন কোথায় আছে জানি না। ইউসুফ খান ও তার লোকজন আমার কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা নিয়েছে। আমি আমার ছেলের মুক্তি চাই, পাশাপাশি টাকা ফেরতও চাই।

গত বছরের ১৯ নভেম্বর দালালচক্রের মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ার বন্দিশালায় আটকা পড়েন মাদারীপুরের আট যুবক। তারা হলেন সদর উপজেলার চাছার গ্রামের সুমন মুন্সি ও রাজন মুন্সি, লক্ষ্মীগঞ্জের রাতুল মোল্লা, চরখাগদী গ্রামের রাকিব বেপারী, শিবচর উপজেলার সাইফুল ইসলাম, পূর্ব সন্ন্যাসীরচরের শহিদুল ইসলাম এবং ডাসার উপজেলার ফয়সাল হাসান। পরিবারের সদস্যদের দাবি, মুক্তিপণের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হলেও এখনও তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

নিখোঁজ যুবকদের পরিবারের সদস্যরা জানান, ধার-দেনা করে লাখ লাখ টাকা দালালদের হাতে তুলে দিয়েও সন্তানদের কোনো খোঁজ মিলছে না। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাদারীপুরে সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন খান বলেন, মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ড আবেদনসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদারীপুর মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট শরীফ মোহাম্মদ সাইফুল কবীর বলেন, নিখোঁজ আট যুবকের বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। তাদের পরিবার চরম উদ্বেগ ও হতাশার মধ্যে রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে কাজ করছে।