ঈদের ছুটিতে জমজমাট শেরপুরের পর্যটনখাত

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে জমজমাট হয়ে উঠেছে শেরপুরের পর্যটনখাত। বিশেষ করে ঝিনাইগাতী উপজেলার গজনী অবকাশ বিনোদন কেন্দ্র ও নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্কে পর্যটকদের ভিড় ছিল উপচে পড়া। ঈদের দিন পর্যটক কম থাকলেও পরদিন থেকেই হাজারো পর্যটকের আগমনে মুখর হয়ে ওঠে এ দুটি পর্যটনকেন্দ্র। এছাড়া জেলার ছোট-বড় প্রায় সব পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল উল্লেখযোগ্য।
ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নে প্রায় ৯০ একর জায়গাজুড়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে গজনী অবকাশ বিনোদন কেন্দ্র। চারপাশের সবুজ পাহাড়, উঁচু-নিচু টিলা, শাল-গজারি বন এবং পাহাড়ি পরিবেশ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এখানে রয়েছে ছোট ছোট ঝরনা, লেক, ভাসমান সেতু, ঝুলন্ত সেতু, ক্যাবল কার, ওয়াচ টাওয়ার, মিনি ট্রেন, শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইডসহ দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য। এছাড়া পুরো এলাকায় গারো সংস্কৃতির ছোঁয়াও পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, বন বিভাগের উদ্যোগে নালিতাবাড়ী উপজেলায় গড়ে ওঠা মধুটিলা ইকোপার্ক প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য গন্তব্য। প্রায় ৩৮০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এ ইকোপার্কে রয়েছে পাহাড়ের চূড়ায় ওঠার সিঁড়ি, মনোরম লেক, বোটিং সুবিধা, ওয়াচ টাওয়ার, স্টার ব্রিজ, শিশু পার্ক এবং বিশ্রামাগার।
ফলে ঈদের ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই ছুটে আসেন এখানে। এছাড়া শ্রীবরদী উপজেলার রাজার পাহাড়, নয়াবাড়ির টিলা, রাবার বাগান, সদর উপজেলার অর্কিড পর্যটন কেন্দ্র অ্যান্ড রিসোর্ট, নালিতাবাড়ীর নাকুগাঁও স্থলবন্দর এবং নকলার নারায়ণখোলা শিমুল গাছ এলাকাতেও ছিল পর্যটকদের ভিড়।
ময়মনসিংহ থেকে পরিবার নিয়ে গজনী অবকাশে ঘুরতে আসা আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, অনেক দিন ধরেই গজনীতে আসার ইচ্ছা ছিল। এবার ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে এসেছি। এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। প্রকৃতির যে অপূর্ব পরিবেশ, তা সত্যিই উপভোগ করছি।
নেত্রকোণা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক কবিতা আক্তার বলেন, আমি ঢাকায় থাকি। সবসময় সুযোগ হয় না। এবার ঈদের ছুটিতে এখানে এসেছি। এর আগে একবার বান্ধবীদের সাথে এখানে এসেছিলাম। এবার দ্বিতীয়বার এলাম। আগের চেয়ে অনেক নতুন নতুন রাইড যুক্ত হয়েছে, যা খুব ভালো লেগেছে।
জামালপুর থেকে আসা সোহেল রানা বলেন, এখানকার ঝুলন্ত সেতুতে উঠে খুব ভালো লেগেছে। সত্যিই দারুণ অনুভূতি। এর আগে কখনও এমন ঝুলন্ত সেতুতে উঠিনি। ওয়াচ টাওয়ার থেকেও চারপাশের দৃশ্য উপভোগ করে মুগ্ধ হয়েছি।
গজনী অবকাশের ঝুলন্ত ব্রিজের ইজারাদার ছানোয়ার হোসেন বলেন, এবারের ঈদের ছুটিতে বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক গজনীতে এসেছেন। তারা বিভিন্ন রাইডে অংশ নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। পর্যটকদের উপস্থিতিতে আমরাও আনন্দিত।
গজনীর মিনি চিড়িয়াখানার ইজারাদার ফরিদ মিয়া বলেন, ঈদ উপলক্ষে আমরা নতুন নতুন রাইড যুক্ত করেছি। আল্লাহর রহমতে গত দুই দিন ধরে পর্যটকদের ব্যাপক ভিড় ছিল। আমরা প্রতি বছর ঈদকে ঘিরে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করি। পর্যটন এলাকার বিভিন্ন স্থাপনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি নতুন আকর্ষণও যুক্ত করা হয়। এবারো তাই করেছিলাম।
গজনী অবকাশ বিনোদন কেন্দ্রের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, ঈদের দিন পর্যটক তুলনামূলক কম থাকলেও পরের দিন থেকেই গজনী অবকাশে দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে ঘুরতে আসছেন। পর্যটকদের আগমনে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
মধুটিলা ইকোপার্কের ইজারাদার মজিবুর রহমান বলেন, ঈদের দিন বিকেল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকরা এখানে আসেন। গত দুইদিন ধরে বেশি পর্যটক মধুটিলা ইকোপার্কে এসেছে। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুকে নিয়ে। আবার কেউ একা একা ঘুরতে এসেছেন। অনেকেই ইকোপার্কের ভেতরে থাকা দোকান-পাট থেকে নানা ধরণের জিনিষপত্র কিনেছেন। এতে ব্যবসায়ীরা লাভবান হয়েছে।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও ছিল। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে।
