ফ্রিল্যান্সিং-এআই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ যুবসমাজ গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

সরকার ফ্রিল্যান্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ যুবসমাজ গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি বলেন, এর ফলে ঘরে ঘরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ শুধু আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা বাস্তবে প্রশিক্ষণার্থীদের কাজে লাগছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণরা যেন নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ভোলা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্পের ৮ম ব্যাচ এবং ‘তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্পের ২য় ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ৮৩টি ট্রেডের কোনগুলো বর্তমান সময়ে যুবকদের জন্য কার্যকর এবং কীভাবে সেগুলোকে আরও প্রয়োজনমুখী করা যায়, তা নিয়েও কাজ চলছে। ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন তরুণ ঘরে বসে আয় করতে পারবেন। এতে বেকারত্ব কমানোর পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তরুণদের মাদক ও ডিভাইস আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান আমিনুল হক। তিনি বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে খেলাধুলার বিকল্প নেই। তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় তৈরির পাশাপাশি একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এ জন্য প্রতিটি উপজেলায় একটি করে স্টেডিয়াম এবং দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন ক্লাব গড়ে তোলা এবং ক্রীড়া চর্চার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। শিশুদের ডিভাইসের ব্যবহার কমাতে চতুর্থ শ্রেণি থেকে পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা-সংক্রান্ত বই সংযোজন ও তা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বায়োগ্যাস ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গবাদিপশু ও অন্যান্য প্রাণীর বর্জ্য কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। তার দাবি, ইতোমধ্যে দেশে প্রায় ১৫ হাজার বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে জ্বালানি চাহিদা পূরণে এসব প্ল্যান্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেশের রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন আমিনুল হক। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভঙ্গুর অর্থনীতি ও দীর্ঘদিনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে দেশকে উত্তরণের চেষ্টা করছে। গণতান্ত্রিক চর্চা ও মানুষের বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে দাবি করেন তিনি।
একটি মহল ও আওয়ামী লীগের দোসররা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে বলে সরকার মনে করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে। অতীতের ব্যবহারের পরিবর্তে পুলিশকে জনগণের পাশে থেকে কাজ করার উপযোগী করে তোলার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে পরিবর্তন, খেলাধুলার প্রসার, পরিবেশ সংরক্ষণ, খাল খনন এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। এসব বাস্তবায়নে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।
ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের বিষয়ে আমিনুল হক বলেন, ঢাকা, বরিশাল ও ভোলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সহজ করতে এ সেতুর কোনো বিকল্প নেই। ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সেতুটির কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন।
অনুষ্ঠানে ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. শেখ মো. জোনায়েদ হোসেন, ভোলা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ গোলাম নবী আলমগীর এবং ভোলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ কাওসার।
এসময় ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রশিক্ষণের প্রশিক্ষণার্থীসহ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের ৮ম ব্যাচ ও এআই প্রশিক্ষণের ২য় ব্যাচের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে ছয়জন দক্ষ প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে একটি করে কম্পিউটার বিতরণ করা হয়।
এর আগে বুধবার রাতে ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে ভোলার উদ্দেশে রওনা হয়ে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে তিনি ভোলায় পৌঁছান। এর আগে সকালে ভোলার ইলিশায় একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি ভোলার পুরাতন যুগীরঘোলে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দলের ভোলা জেলা প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন করেন।
