পিরোজপুরে বিষমুক্ত শুঁটকি উৎপাদন, সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

পিরোজপুর জেলার কচাঁ নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা পাড়েরহাট সামুদ্রিক মৎস্য বন্দরকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিষমুক্ত শুঁটকি উৎপাদনের এক সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। বন্দরের পাশের চিথলিয়া গ্রামের নদীর চরে গড়ে ওঠা শুঁটকি পল্লিতে এখন সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের শুঁটকি, যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের নানা অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ এলাকায় বর্তমানে পাশাপাশি প্রায় সাতটি শুঁটকি পল্লি রয়েছে। নভেম্বর থেকে মার্চ—এই সময়টিই মূলত শুঁটকি তৈরির মৌসুম। এ সময় ঢেলা, মরমা, ফ্যাপসা, কংকন, ছুরি, লইট্যা, চাপিলা, লাউক্যা, হাইতাসহ প্রায় ৩৫ প্রজাতির মাছ প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এরমধ্যে লাউক্যা ও হাইতা মাছের শুঁটকির দাম তুলনামূলক বেশি।
প্রতিদিন ভোরে পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর থেকে মাছ কিনে এনে শ্রমিকরা সেগুলো পরিষ্কার করে রোদে শুকাতে দেন। একটি মাছ শুঁটকিতে পরিণত হতে সময় লাগে ৫ থেকে ৮ দিন। পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রাসায়নিক বা বিষাক্ত উপাদান ব্যবহার করা হয় না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
শুঁটকি ব্যবসায়ী আলি সরদার বলেন, প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়ায় আমাদের শুঁটকির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। প্রতিবছর প্রায় কোটি টাকার শুঁটকি দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হয়।
আরেক ব্যবসায়ী ইমাম বেপারী জানান, তিনি প্রায় ১৩ বছর ধরে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। প্রতি কেজি শুঁটকির দাম ৩০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়। তবে সরকারি সহায়তা পেলে এই শিল্প আরও বড় পরিসরে গড়ে তোলা সম্ভব, বলেন তিনি।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এখনও তারা কোনো ধরনের সরকারি ঋণ বা আর্থিক সহায়তা পাননি। ঝড়-বৃষ্টির কারণে মৌসুমে প্রায়ই ক্ষতির মুখে পড়তে হয় তাদের।
এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত বলেন, এ অঞ্চলে শুঁটকি শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক তদারকি ও সহায়তা পেলে এখানে বড় ধরনের কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব। তিনি জানান, শীত মৌসুমে এ পল্লিগুলোতে ৯ থেকে ১০ টন শুঁটকি উৎপাদিত হয়।