দিনমজুরের ঘরের বারান্দা ভেঙে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে এক দিনমজুরের বসতঘরের বারান্দা ভেঙে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পাকা রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়কের টাইলা বাজারের পাশে দিনমজুর অরুন দাসের রেকর্ডীয় পৈত্রিক সম্পত্তিতে থাকা বসতঘরের বারান্দা ভেঙে ঠিকাদারের লোকজন রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় অরুন দাস গত ৩১ আগস্ট জেলা প্রশাসক ও এলজিইডির সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগ দায়েরের পরও রাস্তা নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। অরুন কুমার দাস টাইলা গ্রামের অদ্বৈত চন্দ্র দাসের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়কটি নির্মাণ করছে এলজিইডি। টাইলা বাজারের পাশে ৭ শতক জায়গার ওপর অরুন দাসের পৈত্রিক ভিটা ও বসতবাড়ি রয়েছে। সেখানে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করেন তিনি।
সম্প্রতি তার বাড়ির পাশের সড়কটি পাকা করার উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। রাস্তা নির্মাণের কাজ পান ঠিকাদার লিটন সিংহ। ঠিকাদারের কাজ স্থানীয়ভাবে দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন কনক দত্ত নামের এক ব্যক্তি। অরুন দাসের দাবি, তার বাধা-নিষেধ উপেক্ষা করে ঠিকাদারের লোকজন বসতঘরের বারান্দা ভেঙে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন। বারান্দা ভাঙতে নিষেধ করলে উল্টো তাকে হুমকি দিয়ে জোর করে রাস্তা নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
অরুন দাস বলেন, আমি একজন দিনমজুর। স-মিলে চালকের কাজ করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করি। পৈত্রিক ভিটাবাড়িটিই আমার একমাত্র সম্বল। কিন্তু বসতঘরের সামনের বারান্দা ভেঙে জোর করে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। বাধা-নিষেধ করলে উল্টো আমাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারের প্রতিনিধি কনক দত্ত বলেন, টাইলা গ্রামের কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে নিয়ে রাস্তা মাপজোক করে অরুন দাসের বারান্দার কিছুটা অংশ ভাঙা হয়েছে। এখনো রাস্তা ঢালাইয়ের কাজ বাকি রয়েছে।
এ ব্যাপারে এলজিইডির সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়ক নির্মাণে টাইলা গ্রামের কাছে রাস্তা প্রশস্ত করার বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে স্থানীয়দের জন্য। রাস্তা করতে হলে কিছুটা ছাড় দিতে হবে। তারপরও বিষয়টি দেখার জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দিয়েছি।


