logo
Advertisement

কোটি টাকার সংস্কারেও বদলায়নি গোপালগঞ্জ-তালা-কেকানিয়া সড়কের চিত্র

এশিয়া পোস্ট নিউজ, গোপালগঞ্জ
কোটি টাকার সংস্কারেও বদলায়নি গোপালগঞ্জ-তালা-কেকানিয়া সড়কের চিত্র
গোপালগঞ্জ-তালা-কেকানিয়া সড়ক। ছবি : এশিয়া পোস্ট

একবার নয়, একাধিকবার সংস্কারের পেছনে ব্যয় হয়েছে কোটি কোটি টাকা। তবুও বদলায়নি গোপালগঞ্জ-তালা-কেকানিয়া সড়কের নাজুক চিত্র। বর্ষা এলেই আবারও দেখা দেয় ভাঙন। সর্বশেষ সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার আগেই টানা বৃষ্টিতে ধসে গেছে সড়কের দুটি অংশ। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার অন্তত ১৫টি গ্রামের প্রায় ছয়টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষকে।

Advertisement

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের দুটি স্থানে একপাশ ভেঙে নিচের দিকে ধসে গেছে। ভাঙা অংশ দিয়ে হেলেদুলে পার হচ্ছে ইজিবাইক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। প্রতিদিন চলাচলের ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে তীব্র দুর্ঘটনার আশঙ্কা। গোপালগঞ্জ জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান এই মাধ্যমটি বেহাল হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।

এক ইজিবাইক চালক ভেন্না মুন্সী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কে গাড়ি চালাচ্ছি। বারবার রাস্তাটি ভেঙে যাচ্ছে। এতে আমাদের গাড়ি চালাতে সমস্যা হচ্ছে, যাত্রীদেরও কষ্ট বাড়ছে। আমরা সরকারের কাছে একটাই দাবি জানাই—রাস্তাটি যেন টেকসইভাবে সংস্কার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জয় সিংহ বলেন, এই রাস্তা দিয়ে ছয়টি ইউনিয়নের মানুষ চলাচল করে। ভাঙা অংশের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। ছোট ছোট শিশুরা এ পথ দিয়ে স্কুলে যায়, তাই সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। সাময়িক তালিমারি না দিয়ে কাজটা টেকসই করা দরকার।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় সাড়ে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি। ২০১৯ সালে এটির বড় ধরনের সংস্কারে ব্যয় হয় প্রায় ১০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এত কিছুর পরও ২০২২ সালে সড়কের দুটি স্থানে আবারও ধস নামে।

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন করে সংস্কারকাজ শুরু হয়। গত ৮ জানুয়ারি ‘বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। মার্চে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গড়ায় জুন পর্যন্ত। জুন মাসে কাজের প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হওয়ার পরপরই টানা বৃষ্টিতে আবারও একই অংশ ধসে পড়ে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টানিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক চালকই সেই নিষেধাজ্ঞা মানছেন না।

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ রুবাইয়াত জামান জানান, সড়কের এই ধসে যাওয়া স্থানটির জন্য বিশেষ নকশা ও সংস্কার প্রয়োজন। তাদের ডিজাইন ইউনিট থেকে বিশেষজ্ঞ দল এনে স্থানটির জন্য নতুন নকশা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমান নকশায় স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাই নতুন নকশা তৈরি করে পুনরায় দরপত্রের (টেন্ডার) মাধ্যমে স্থায়ী কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।