logo
Advertisement

গোয়ালঘরে বসবাস করা সোহেলের পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও

গোয়ালঘরে বসবাস করা সোহেলের পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও
মাটি কেটে ঘরের কাজের উদ্বোধন করলেন ইউএনও। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর গ্রামে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে গোয়ালঘরে বসবাস করা সোহেলের পাশে দাঁডয়েছেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন। পরিবারটির মানবেতর জীবনযাপনের খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে তাদের বাড়িতে ছুটে যান তিনি। পরে তাদের জন্য ঘর নির্মাণ ও জীবিকার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান ইউএনও দবির উদ্দিন। সোমবার সরেজিমন গিয়ে দেখা যায়, ঘর তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

ইউএনও বলেন, পরিবারটির অবস্থা অত্যন্ত মানবেতর। তাদের মাথা গোঁজার মতো কোনো ঘর নেই, আবার আয়েরও কোনো ব্যবস্থা নেই। সালথা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোহেলের পরিবারের জন্য একটি ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি দোকানের ব্যবস্থা করে দেওয়ারও চেষ্টা করা হবে।

ইউএনও আরও বলেন, একটি স্থায়ী আশ্রয় ও আয়ের ব্যবস্থা হলে পরিবারটির জীবনযাত্রায় কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে তারা নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবেন।

এর আগে সোহেলের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, গরু রাখার জন্য নির্মিত ছোট্ট ঘরটিই এখন তাদের পুরো সংসার। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। স্বাভাবিক জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সেখানে নেই বললেই চলে।

সোহেল নিজেও অসুস্থ। শারীরিক অসুস্থতার কারণে নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। তার স্ত্রীও দীর্ঘদিন ধরে দুই কিডনি নষ্ট হয়ে অসুস্থ। একসময় ভিক্ষা করে সংসারে সামান্য সহযোগিতা করলেও এখন অসুস্থতার কারণে সেটিও সম্ভব হয় না। ফলে চিকিৎসার খরচ, খাবারের জোগান এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ—সবকিছু মিলিয়ে প্রতিদিনই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে পরিবারটিকে।

এই অভাবের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে সন্তানদের জীবনে। ১৩ বছর বয়সী বড় ছেলে সংসারের প্রয়োজনে স্কুল ছেড়ে দোকানে কাজ করছে। যে বয়সে তার হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, সেই বয়সেই তাকে কাঁধে নিতে হয়েছে পরিবারের দায়িত্বের বোঝা।

অন্যদিকে সাত বছর বয়সী ছোট ছেলে এখনো প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। দারিদ্র্যের মধ্যেও তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। পরিবারের সদস্যদের আশা, সুযোগ পেলে এই শিশুটিই একদিন তাদের কষ্টের দিন বদলাতে পারবে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি রাজিয়া বেগম বলেন, পরিবারটির জন্য সবার আগে একটি স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে এলে তারা নিরাপদে থাকার একটি ঠিকানা পেতে পারেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল মাতুব্বর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটির এমন দুরবস্থা দেখে আসছেন তারা। সোহেল ও তার স্ত্রীর চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের জন্য একটি ঘর এবং আয়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে পরিবারটির কষ্ট অনেকটাই কমতে পারে।