logo

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সন্দেহে/‘মারছি ভালো করেছি, আরও মারা উচিত ছিল’

‘মারছি ভালো করেছি, আরও মারা উচিত ছিল’
নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ সন্দেহে মারধরের শিকার চবি শিক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম অপুকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার মুহূর্ত। ছবি : এশিয়া পোস্ট

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ সন্দেহে এক শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে মারধর, মুঠোফোন তল্লাশি এবং পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা থেকে রাত ২টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম হাসিবুল ইসলাম অপু। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাবা শাহজাহান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের কর্মচারী।

অপুর পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টিউশনি শেষে বাসায় ফেরার পথে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল তাকে তুলে নিয়ে যায়। অপুর মা হোসনে আরা জানান, রাত ১০টার দিকে অপুর সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়। তখন অপু তাকে জানিয়েছিলেন, তিনি বাসার কাছাকাছি আছেন। কিন্তু রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তিনি বাসায় না ফেরায় বারবার ফোন করা হলেও কেউ তা ধরেননি। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পরিবার জানতে পারে, অপুকে তুলে নেওয়া হয়েছে।

অপুর মা হোসনে আরা বলেন, খবর পেয়ে আমি প্রক্টরের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরে প্রক্টর জানান, তাকে নিরাপত্তা কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। সেখানে গিয়ে দেখি, আমার ছেলে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না। পুরো শরীরে কালশিটে দাগ। হাত নাড়াতে বা কথা বলতে পারছিল না। কোনো অন্যায় করলে তাকে পুলিশে দেওয়া যেত, কিন্তু এভাবে পেটানো হলো কেন? উপস্থিত ছেলেদের একজন আমার সামনেই বলে, মারছি ভালো করেছি, আরও মারা উচিত ছিল।

ঘটনাটি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক ইসহাক ভূঁঞা বলেন, তাকে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহজনক আচরণের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মুঠোফোন তল্লাশি করে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ও বিভিন্ন মিছিলে অংশ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ছাত্রলীগের চবি শাখার সাবেক এক সহসভাপতি তাকে ভিডিও কলও দেন। তবে তাকে মারধর করা হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই।

অপুর মুঠোফোন তল্লাশির বিষয়ে তার মা প্রশ্ন তুলে বলেন, আমার ছেলের মোবাইল তল্লাশি করার অধিকার তাদের কে দিয়েছে? সে রাজনীতি করে না। তা ছাড়া মারধরের পর তার চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিল। আমরা কার কাছে বিচার পাব?

মুঠোফোন তল্লাশির বিষয়টি নিশ্চিত করে চবি প্রক্টর অধ্যাপক কামরুল হোসেন বলেন, চাকসু নেতাদের মুঠোফোন তল্লাশি করার আইনগত সুযোগ নেই। তবে তারা দুজনের মুঠোফোন ঘেঁটে কিছু তথ্য পেয়েছেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অপুর বিষয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে।

প্রক্টর বলেন, আমাদের হেফাজতে আনার পর তাকে কোনো মারধর করা হয়নি। তার আগে হয়েছে কি না, জানা নেই।

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও প্রশাসনের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, বিষয়টিকে প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করছে না। তবে যাদের ধরা হয়েছে, তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।