খুবি শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় ডিসি অফিস ঘেরাও

সড়ক দুর্ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মৌমিতা হালদার নিহতের ঘটনায় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন সহপাঠীরা। খুলনা সিটি করপোরেশন থেকে দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সরবরাহ না করায় সহপাঠীরা প্রশ্ন তুলেছেন—মৌমিতার মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড তা নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ডিসির কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন।
মৌমিতা হালদার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ডিসিপ্লিনের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ও নগরের মুন্সীপাড়ার তরুণ হালদারের মেয়ে ছিলেন। ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় খুলনা জেলা পরিষদ ভবনের সামনে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় রিকশা থেকে পড়ে মারা যান তিনি।
ঘটনার পরদিন ৩১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘাতক চালককে গ্রেপ্তার, সংশ্লিষ্ট গাড়ি জব্দ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে পৃথকভাবে চিঠি দেওয়া হয়।
মৌমিতার সহপাঠীরা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান আকাশ জানান, দুর্ঘটনার পরদিন সকালে তারা ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে খুলনা সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে যান। প্রথমে দেওয়ার কথা বলা হলেও পরে জানানো হয় ফুটেজ ডিলিট হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিত হতে পারছি না এটি দুর্ঘটনা না কি হত্যাকাণ্ড। প্রশাসনের কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের শনাক্ত করার দাবি জানানো হলেও এখনও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
বিক্ষোভ থেকে শিক্ষার্থীরা সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দাবি জানান। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তি, লাইসেন্সবিহীন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং নগরীতে কঠোর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
পরে শিক্ষার্থীরা খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেন। এতে তারা দ্রুত দোষীদের খুঁজে বের করে বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের হাজির করার আলটিমেটাম দিয়ে ঘেরাও কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা দেন।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে খুবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, মৌমিতার মৃত্যুর তিন দিন পার হলেও ঘাতক চালক ও গাড়ি শনাক্ত না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক ও উদ্বেগজনক। ঘটনার পরপরই পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়েছে এবং তিনি বলেছেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছেন। তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকলেও সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ অস্পষ্ট হওয়ায় এখনও চালককে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উপস্থিত হয়ে খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিতান কুমার মন্ডল জানান, ঘটনার পর থেকেই প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে।
পুরো নগরীকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পুরো শহরকে সিসিটিভির আওতায় আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে এদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান মৌমিতা নিহতের ঘটনায় খুলনা সদর থানায় একটি মামলা করেছেন।
এ বিষয়ে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবীর হোসেন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়েরর শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা হয়েছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দ্রুত অপরাধীকে শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।